ন্যাপোলির অনন্য নিবেদন

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২০, ২১:৫৮

স্পোর্টস ডেস্ক 

দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনার ইতিহাসে যেমন অনন্য একজন, ইতালিয়ান ক্লাব ন্যাপোলির জন্যেও ঠিক তেমন কিছুই। সেই অনন্য একজনের জন্যে ন্যাপোলির শ্রদ্ধাজ্ঞাপনটাও হলো আর সবার চেয়ে বেশ আলাদা। 

ন্যাপোলির ৯৪ বছরের ইতিহাসে বড় শিরোপা সে শহরে গিয়েছে মোটে তিন বার। দুটো সিরি আ আর একটা ইউরোপা লিগ (তত্কালীন ইউয়েফা কাপ)। তিনটিই এসেছে ম্যারাডোনা যখন দলটির একজন ছিলেন তখন। এর আগে রীতিমতো অবনমন এড়াতে লড়া দলকে পাঁচ মৌসুমের ব্যবধানে দেশের অন্যতম সেরা বানিয়ে দেওয়ার কারিগরও ছিলেন এই ম্যারাডোনাই। এমন কিংবদন্তির মৃত্যু ন্যাপোলিকে, নেপলসের মানুষজনকে নাড়িয়েছে ভালোভাবেই। আর্জেন্টাইনদের বাইরে এই ন্যাপোলিতানোদের কান্নার ছবি সয়লাব হয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে। 

তবে সেটা ছিল ন্যাপোলির শ্রদ্ধা নিবেদন, ভালোবাসা প্রকাশের কেবল শুরু মাত্র। ক্লাবের সবচেয়ে বড় কিংবদন্তির সম্মানে নিজেদের স্টেডিয়াম এস্তাদিও সান পাওলোর নামই পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ন্যাপোলি কর্তৃপক্ষ, ঘোষণাও আসছে অচিরেই; গুঞ্জন ইউরোপীয় সংবাদ মাধ্যমে। 

ম্যারাডোনার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রতিটি ম্যাচে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়েছে তার স্মরণে। ইউরোপা লিগে, রিয়েকার বিপক্ষে ন্যাপোলির ম্যাচেও মানা হলো সে নিয়ম। তবে ক্লাবের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের জন্যে নিবেদনে সে পর্যন্তই কেনো সীমাবদ্ধ থাকবে ন্যাপোলি? থাকলোও না। ম্যাচটায় পুরো দল নামলো ম্যারাডোনার নামাঙ্কিত জার্সি পরে। 

তার আগে পরেও ছিল আয়োজন। পুরো স্টেডিয়াম পাড়ার আলোকসজ্জার মধ্যমনি ছিলেন ম্যারাডোনা। ফাঁকা গ্যালারির সামনে হোর্ডিং জুড়ে ছিল ম্যারাডোনার উপস্থিতি, জায়ান্ট স্ক্রিনে ছিল ছবি। 

এদিকে ন্যাপোলি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের চেষ্টা করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড দিয়েও। ফেসবুক, টুইটার, ইনসটাগ্রাম; সর্বত্র নিজেদের প্রোফাইল ছবি সাদা কালো করে দিয়েছে। পরিবর্তন এসেছে কভারেও। যেখানে লেখা, ‘হো ভিস্তো ম্যারাডোনা’ বা ‘আমি ম্যারাডোনাকে দেখেছি’। 

রিয়েকার বিপক্ষে ম্যাচে মাতেও পলিতানো আর এর্ভিং লোজানোর গোলে পাওয়া জয়টা অনুমিতভাবেই উত্সর্গ করল আর্জেন্টাইন জাদুকরের জন্যে। ক্লাবের সবচেয়ে প্রভাবশালী একজনের চিরবিদায়ে এভাবেই শ্রদ্ধা জানিয়েছে ন্যাপোলি।