প্রেম নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে হত্যা করে বন্ধু ও সহযোগীরা

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২০, ২২:২১

কলেজছাত্র জিসান খুন, পাঁচ জন গ্রেফতার, দুই জনের দায়স্বীকার

পিনাকি দাসগুপ্ত

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার কলেজছাত্র তানভীর আহমেদ জিসানকে খুনের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আজিজুল মোল্লা ও হাসিবুল হাসান জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম। গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্য মতে পুলিশ সুপার জানান, একটি মোবাইল ফোন ও প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে জিসানকে নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। তানভীর আহমেদ জিসান মোহাম্মদপুরের হাজি মকবুল ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন ।

উল্লেখ্য, গত ১৫ নভেম্বর মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিংয়ের বাসা থেকে নানাবাড়ি যাওয়ার কথা বলে বের হন জিসান। পরে ১৮ নভেম্বর মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটের ২ নম্বর টার্মিনালের অদূরে পদ্মা নদীর তীর থেকে জিসানের (অজ্ঞাত হিসেবে) লাশ উদ্ধার করে শিবালয় নৌ পুলিশ। পরে অজ্ঞাত হিসেবে তার লাশ দাফন করা হয়।

পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম জানান, জিসান ১৫ নভেম্বর দুপুরে মোহাম্মদপুর কাদেরাবাদ হাউজিংয়ের  বাসা থেকে নানার বাড়ি যাওয়ার কথা বলে বেড় হয়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ না মেলায় ও ব্যবহূত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ থাকায় তার বাবা শাহিন আলম গত ২৩ নভেম্বর মোহাম্মদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এদিকে লাশ দাফনের পর ২৫ নভেম্বর জিসানের বাবা শাহিন আলম শিবালয় থানায় রক্ষিত লাশের ছবি দেখে শনাক্ত করেন। এরপর ২৬ নভেম্বর জিসানের বাবা শাহিন আলম অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে শিবালয় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে শিবালয় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানিয়া সুলতানা, শিবালয় থানার ওসি ফিরোজ কবির ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আশীষ কুমার সান্যালকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রযুক্তিসহায়তা ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় জিসানের বন্ধু রাব্বি, আজিজুল মোল্লা, হাসিবুল হাসান, নাজমুল ও শাহীনকে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে এ হত্যার উদ্দেশ্য, হত্যাকারী, হত্যার স্থান ও নারকীয় কায়দায় হত্যাকাণ্ডের যাবতীয় তথ্য।

পুলিশ সুপার বলেন, নিহত জিসানের সঙ্গে আসামি রাব্বির মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। অপরদিকে জিসানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বিথী নামের এক তরুণীর। সেই সুবাদে বিথীর এক ভাগ্নি সাদিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠে রাব্বির। এ নিয়ে নীরব দ্বন্দ্ব চলছিল জিসান-বিথী ও রাব্বি-সাদিয়া জুটির মধ্যে। এসব বিষয় নিয়ে জিসান কৌশলে রাব্বির মোবাইল ফোনটি নিয়ে নেয়। আর একে কেন্দ্র করেই মূলত জিসান-রাব্বির সম্পর্কেও চরম অবনতি হয়। প্রতিহিংসা চরিতার্থে কৌশলে পদ্মা নদী দেখানোর কথা বলে ডেকে এনে জিসানকে নির্মমভাবে খুন করে রাব্বি ও তার সহযোগীরা। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আশীষ কুমার সান্যাল জানান, দুই আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি তিন জনকে আদালতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।