প্রসঙ্গ :মাস্ক

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২০, ২২:৩৩

কঙ্কন সরকার

করোনার দ্বিতীয় দফা আক্রমণ মোকাবিলার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে দেশে দেশে। বাংলাদেশেও শীতকালীন দ্বিতীয় দফা আক্রমণ মোকাবিলায় মাস্ক ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ এমন বিধি সংযোজন করে মাস্ক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে সচেতনতামূলক প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে—মাস্ক ব্যবহার শতকরা ৮০/৯০ ভাগ কোভিড-১৯ জীবাণু প্রতিরোধ করতে সক্ষম, তবে তা চিকিত্সাবিজ্ঞানসম্মত মাস্ক হতে হবে। আর এ ধরনের মাস্ক এন-৯৫ বা অন্যান্য মাস্কের মূল্যমানও বেশি। অন্যদিকে হাটে-বাজারে কিংবা ফেরিওয়ালার কাছে কিংবা সাধারণ দোকানে যেসব মাস্ক সুলভ মূল্যে পাওয়া যায়, তা কতটা স্বাস্থ্যসম্মত সে প্রশ্ন থেকেই যায়। এক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণের সঙ্গে সঙ্গে অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মত মাস্ক ব্যবহারের দিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে।

সাধারণভাবে সুতি কাপড়ের তৈরি তিন স্তর বিশিষ্ট কাপড়ের মাস্কই স্বাস্থ্যসম্মত। পত্রিকান্তরে প্রকাশ, ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া এবং করোনার মতো অদৃশ্য জীবাণুদের মারতে সুতির মাস্ক বেশ ভালো কাজ দেয় বলে দাবি একদল বিজ্ঞানীর। জার্নাল এসিএস অ্যাপ্লাইড মেটেরিয়ালস এবং ইন্টারফেসে প্রকাশিত সমীক্ষা অনুসারে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, সম্প্রতি একটি গবেষণায় গবেষকরা দেখিয়েছেন যে, নতুন সুতির কাপড় দিয়ে তৈরি করা মাস্কগুলো করোনার মতো ক্ষতিকর জীবাণু এবং ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলতে সক্ষম। শুধু তাই নয়, গবেষকরা আরো জানিয়েছেন—সূর্যের আলোতে এই মাস্কগুলো ঘণ্টায় ৯৯.৯৯ শতাংশ ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসকে বিনাশ করতে পারে। তাঁদের মতে, অন্য মাস্কের তুলনায় সুতির মাস্কগুলো প্রতিবার ব্যবহারের পর ধোয়া যেতে পারে। তবে ১০ বার ধুলেও এই মাস্ক নষ্ট হয় না। বরং সুতির তৈরি মাস্ক ন্যানোস্কেল অ্যারোসোল কণাকে ফিল্টার করতে পারে এবং ধুয়ে আবার ব্যবহার করা যায়। আর এই মাস্ক সহজে তৈরি করে নেওয়াও সম্ভব এবং সাশ্রয়ী, অন্যদিকে টিকবেও বেশিদিন। তাই সুতির মাস্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা তৈরি করা দরকার।

শীতে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন চিকিত্সকরা। যেহেতু বাংলাদেশে বায়ুদূষণের হার অত্যন্ত বেশি এবং তা শীতের সময় থেকে বাড়তে থাকে, পাশাপাশি ধূমপায়ীর সংখ্যাও বেশি; বায়ুদূষণ এবং ধূমপান করোনার আক্রমণের জন্য সহায়ক। তাই শীত, ধুলো, বায়ুদুষণ এবং করোনার জীবাণুসহ বায়ুবাহিত জীবাণু প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহার একান্ত দরকার। সাধারণভাবে দেখা গেছে, মাস্ক ব্যবহারকারীরা সর্দি-কাশিতে ভোগেন কম। অ্যাজমা রোগীদের মাস্ক ব্যবহারে অনেক উপকার হয়। তাই মাস্ক ব্যবহার শুধু করোনা প্রতিরোধে নয়, নানাবিধ সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। তবে দ্রুত হাঁটার ক্ষেত্রে কিংবা ব্যায়াম করার সময় মাস্ক না ব্যবহার করাই উচিত। জনসমক্ষে হাঁচি, কাশি ও কথা বলার সময় মাস্ক ব্যবহারকারীর মাস্ক যেন মুখেই থাকে। তাতে হাঁচি-কাশিতে ছড়ানো ড্রপলেট বা জীবাণু অন্যদের মাঝে সংক্রমণ হবে অতি কম। তাই নিজের সুরক্ষার পাশাপাশি অন্যদের সুরক্ষায় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে অবশ্যই বিধিসম্মতভাবে।

গাইবান্ধা