সংকটে চট্টগ্রামের পাঁচ বাণিজ্যিক সেক্টর

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২০, ২২:৪১

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সার্ভারের দুর্বলতার কারণে চট্টগ্রামে পাঁচটি বাণিজ্যিক সেক্টর সংকটের মুখে পড়েছে। সেক্টরগুলো হচ্ছে, সিএন্ডএফ এজেন্ট, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, শিপিং এজেন্ট, কাস্টমস হাউজ কর্তৃপক্ষ এবং আমদানি-রপ্তানিকারকবৃন্দ। এসব সেক্টরের সূত্রগুলো জানাচ্ছে, সার্ভারের সমস্যার কারণে জাতীয় শুল্কায়ন, আমদানি-রপ্তানি কাজের দৈনন্দিন প্রক্রিয়াসহ চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজকেন্দ্রিক বহু জরুরি কাজ ব্যাহত ও বিলম্বিত হচ্ছে। গত অর্ধদশক ধরে এ বিষয়ে এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে কোনো সুফল না মেলায় ভোগান্তি আগের মতোই রয়েছে।

চট্টগ্রামে সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু ইত্তেফাককে বলেন, কাস্টমসের অটোমেশন চালু হওয়ার পর থেকেই এর সার্ভার কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দ্বারাই পরিচালিত হয়ে আসছে। এই সার্ভারের মাধ্যমেই সব সমুদ্র-স্থলবন্দর, বিমানবন্দর এবং নৌবন্দরসমূহের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এবং জাতীয় রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়া সম্পাদন করা হয়ে থাকে। কিন্তু আমরা দেখতে পেয়েছি কাস্টমসের অটোমেশন প্রক্রিয়ায় সফটয়্যার নয়, সার্ভারের দুর্বলতাই সব সংকটের সৃষ্টি করছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে সার্ভারের স্লো হয়ে যাওয়া বা ধীরগতি, দ্বিতীয়টি হচ্ছে দিনের বিভিন্ন সময় অতিরিক্ত লোড নিতে না পেরে সার্ভারের শাটডাউন হয়ে যাওয়া। এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় হচ্ছে ব্যাকআপ সুবিধা চালু করা, শক্তিশালী সার্ভার বা একাধিক সার্ভার চালু করা। আমরা গত তিন-চার বছর ধরে শুনে আসছি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ৪০০/৫০০ কোটি টাকা      খরচে সার্ভার শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনছে। কিন্তু এই কাজের কোনো বাস্তবায়ন দেখছি না। সার্ভারের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো দ্রুত স্থাপন ছাড়া এই সমস্যা থেকে উত্তরণের কোনো পথ রয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।

এদিকে সার্ভারের সমস্যার কারণে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের একজন কর্মকর্তা যে কাজ মাত্র তিন ঘণ্টায় করতে পারতেন তা তাকে করতে হচ্ছে পাঁচ ঘণ্টায়। ফলে দিনের আট কর্মঘণ্টার বেশির ভাগ সময় নষ্ট হচ্ছে সার্ভারের ধীরগতি ও আকস্মিক শাটডাউন হয়ে যাওয়ার কারণে। আবার দেখা গেছে অটোমেশন ব্যবহারকারী যে কোনো আমদানিকারক আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যতথ্য শুল্কায়ন বিধিমালা অনুযায়ী জানতে চান। দেখা গেছে, সার্ভারের দুর্বলতার কারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃপক্ষের সার্ভার নিয়ন্ত্রণ সেল তা জানতে দিতে চান না।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারস অ্যাসোসিয়েশনের চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ ও বন্দরবিষয়ক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের অটোমেশনের সার্ভার সংকট মোকাবিলায় উচিত জরুরি ভিত্তিতে ব্যাকআপ পদ্ধতি চালু করা। এতে সার্ভার ধীরগতির হয়ে পড়লে কিংবা শাটডাউন হয়ে গেলে সংশ্লিষ্টরা ব্যাকআপ পদ্ধতি ব্যবহার করে তাদের কাজ সম্পাদন করতে পারবেন।

এদিকে সম্প্রতি চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের কমিশনার মো. ফখরুল আলমও স্বীকার করেছেন যে, সার্ভারের সমস্যার কারণে নানা সমস্যা মাঝে মধ্যে টের পাওয়া যায়। এ কাজটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডেরই কেন্দ্রীয়ভাবে সুরাহা করার দায়িত্ব, যেহেতু সার্ভার সেখান থেকেই নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে সিএন্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের প্রায় ৩ হাজারের কাছাকাছি সদস্য রয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে দেশের মোট আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের ৯৩ শতাংশ সম্পাদিত হয়ে থাকে। ফলে দেশের শুল্ক ও রাজস্ব আদায়ের একটি বড় অংশ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় সার্ভার ব্যবহার করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ দিয়েই সম্পাদিত হয়ে থাকে।