খুলনায় দুলাভাইয়ের হাতে অপহূত কিশোরী উদ্ধার হয়নি ১৬ দিনেও

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২০, ২২:৪২

খুলনায় দুলাভাই কর্তৃক কিশোরী শ্যালিকাকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। অপহূতা ফারহানা তামান্না বর্ষা (১৫) নগরীর ক্যান্টনম্যান্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী। এ ঘটনায় খানজাহান আলী থানায় বর্ষার দুলাভাইসহ পাঁচ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ গত ১৬ দিনেও তার হদিস পায়নি।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুন নগরীর খানজাহান আলী থানার শিরোমণি পূর্বপাড়ার কাজী দিদারুল আলম ওরফে বাপ্পির মেয়ে আফসানা মিমি বৃষ্টির (২০) সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ফুলতলা উপজেলার দামোদর গ্রামের  রুহুল আমিন সরদারের ছেলে এস এম আলফাজ আহম্মেদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় আলফাজ ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করার কথা জানায়। কিন্তু বিয়ের পরে জানা যায়, সে ভবঘুরে, বেকার এবং বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। বিষয়টি জানতে পেরে বৃষ্টিকে বাড়িতে নিয়ে আসে তার মা। এ কারণে আলফাজ নানাভাবে হুমকিধামকি দিতে শুরু করে। ১৪ নভেম্বর বর্ষা সকাল পৌনে ৯টায় কলেজে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে বাড়ি থেকে বের হয়। দীর্ঘ সময় পার হলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে জানা যায়, দুলাভাই আলফাজ সরদার, জুয়েল সরদার ও সোহাগ হোসেনসহ কয়েকজন শিরোমণি পূর্বপাড়া তেঁতুলতলা থেকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় গত ১৯ নভেম্বর ফারজানা ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে আলফাজ, তার ভাই জুয়েল, তাদের বাবা রুহুল আমিন, বড় ভাইয়ের স্ত্রী রহিমা এবং যশোর সদর থানার সোহাগ হোসেনকে আসামি করে খানজাহান আলী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এছাড়া মেয়েকে উদ্ধারের জন্য তার বাবা দিদারুল আলম র্যাব-৬ বরাবরও লিখিত আবেদন করেন।

এ ব্যাপারে খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, আলফাজের ছোট ভাই জুয়েলকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতার ও অপহূতাকে উদ্ধারের জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।