কুমিল্লার বরুড়া পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জহির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চার জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশ মামলার এজাহারনামীয় আসামি ফারুককে গ্রেফতার করেছে। নিহতের ভাই জোবায়ের হোসেন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বরুড়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
এদিকে গতকাল শুক্রবার ময়নাতদন্ত শেষে জহিরের মরদেহ তার স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হলে এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দুই দফা জানাজা শেষে বিকালে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় অংশ নেওয়া শোকার্ত ও ক্ষুব্ধ লোকজন খুনিদের ফাঁসির দাবি জানান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি ইকবাল বাহার।
মামলার এজাহার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জীবনপুর গ্রামের আবাদুল ইসলাম আবাদের সঙ্গে তার শ্যালক একই গ্রামের শিব্বির আহমেদের সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা চলে আসছিল। স্থানীয়দের অনুরোধে ঐ বিরোধ মেটাতে বৃহস্পতিবার দুপুরে যুবলীগ নেতা জহির সেখানে যান। সেখানে উত্তেজনার এক পর্যায়ে এক পক্ষের লোকজন জহিরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। তাকে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে রাতে কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। এ সময় তিনি নিহতের মা ও স্বজনসহ এলাকাবাসীকে এ ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারের বিষয়ে আশ্বাস দেন।
স্থানীয়রা জানান, জহিরুল ইসলামের রুপক হোসেন নামে ৮ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। কয়েক বছর আগে স্ত্রীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়। এখন শিশুটির বাবা ও মা কেউ রইল না। নিহতের ভাই জোবায়ের হোসেন বলেন, আমার ভাই কারো কোনো ক্ষতি করেনি। তিনি দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে লাশ হয়েছেন। আমি খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও ফাঁসি চাই।
