ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরুর জন্য আগেই সম্মতি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার জানালেন, ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হলে হোয়াইট হাউজও ছাড়বেন তিনি। তবে পরাজয় স্বীকার করবেন না। কারণ এই নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি হয়েছে বলেই তিনি মনে করেন। খবর সিএনএন ও বিবিসির।
গত ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনে গত এক শতাদ্বীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে। করোনা মহামারির কারণে ১০ কোটির বেশি আগাম ভোট পড়েছে। যার বেশির ভাগই ডাকযোগের ভোট। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ভোট গ্রহণ ও গণনার সময় ভিন্ন হওয়ায় কে জয়ী হয়েছেন সেটা জানতে এবার দেরি হয়েছে। চার দিনের মাথায় বেশির ভাগ মার্কিন গণমাধ্যম বাইডেনকে জয়ী বলে পূর্বাভাস দেয়। কিন্তু ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে পরাজয় মানতে অস্বীকার করেন ট্রাম্প। নির্বাচনের ফল উলটে দিতে পাঁচটি সুইং স্টেটে তার প্রচারণা টিম ও রিপাবলিকান পার্টি দুই ডজনের বেশি মামলা করে। কিন্তু অর্ধেকের বেশি মামলা ইতিমধ্যে খারিজ হয়ে গেছে। বেশির ভাগ সুইং স্টেটে বাইডেনকে জয়ী ঘোষণা করে ফল সত্যায়ন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে গত সপ্তাহে ট্রাম্প ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরুতে সম্মতি দেন। আর বৃহস্পতিবার জানালেন, তিনি হোয়াইট হাউজ ছেড়ে দেবেন।
থ্যাংকসগিভিং ডের ছুটি উপলক্ষ্যে সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ১৪ ডিসেম্বর ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে বাইডেন জিতলে অবশ্যই আমি হোয়াইট হাউজ ছাড়ব। তবে হার মেনে নেওয়া সত্যিই খুব কঠিন হবে। তিনি বলেন, বাইডেনকে জয়ী ঘোষণা করলে ইলকটোরাল কলেজ বড় ভুল করবে। কারণ আমরা জানি নির্বাচনে বড় ধরনের জালিয়াতি হয়েছে। এ সময় সাংবাদিকরা কথা বলতে গেলে তিনি বলেন, এভাবে আমার সঙ্গে কথা বলবেন না। আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। নির্বাচনের পর এই প্রথম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিলেন ট্রাম্প।
২০২৪ সালে রিপাবলিকান দলের হয়ে আবারও প্রার্থী হবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি এখনই ২০২৪ সাল নিয়ে কথা বলতে চাই না। এবারের নির্বাচনের ফল পেতে এখনো অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। একাধিক রাজ্যে আইনি চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়ে বলেন, আজ এবং ২০ জানুয়ারির মধ্যে এখনো অনেক কিছুই ঘটতে পারে। আগামী ৫ ডিসেম্বর জর্জিয়ায় রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থীদের পক্ষে সমাবেশে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট হতে প্রার্থীকে পপুলার ভোট নয়, বরং ২৭০টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট লাগে। জনসংখ্যার ভিত্তিতে ৫০ অঙ্গরাজ্যে মোট ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যা ৫৩৮টি। জো বাইডেন ইতিমধ্যে ৩০৬টি ইলেকটোরাল ভোট নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন ২৩২টি ইলেকটোরাল ভোট। সাধারণত রাজ্যে পপুলার ভোটে জয়ী প্রার্থীকেই ঐ রাজ্যের সব ইলেকটর ভোট দেন।
মার্কিন নির্বাচনের প্রক্রিয়া অনুসারে আগামী ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্যগুলোকে ভোট পুনঃগণনা ও আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি করে নির্বাচনের ফল সত্যায়ন করতে হবে। ১৪ ডিসেম্বর ইলেকটররা মিলিত হবেন এবং তাদের রাজ্যে জয়ীকে ভোট দেবেন। ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে কংগ্রেসকে ইলেকটরদের ভোট গ্রহণ করতে হবে। কংগ্রেস ইলেকটোরাল কলেজ ভোট গণনা ও ফল নিশ্চিত করবে ৬ জানুয়ারি। আর ২০ জানুয়ারি শপথ নেবেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট।
