বঙ্গবন্ধু রেলসেতু প্রকল্পে চাঁদাবাজির অভিযোগ

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২০, ২২:৪৭

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প ও তত্সংলগ্ন ভূঞাপুর-তারাকান্দি ২৯ কিলোমিটার রাস্তা বর্ধিতকরণের কাজে স্থানীয় চাঁদাবাজ গ্রুপের থাবা পড়েছে। সেতু নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ছোট ছোট কাজের সাব কন্ট্রাক্ট (সহযোগী ঠিকাদার) নেওয়ার জন্য টাঙ্গাইলের একজন সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে রেলসেতুর নদী অংশের নির্মাণ কাজ তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন প্রকৌশলীকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া  ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক নির্মাণে স্থানীয় গ্রুপটি ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৩ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছে বলে জানা গেছে।

বহুল প্রতীক্ষিত এই সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন হচ্ছে কাল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করবেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে ৩০০ মিটার উত্তর দিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান্তরালে ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতু নির্মাণ করা হবে। ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হলেও সংশোধিত প্রকল্পে সময়সীমা দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রকল্প ব্যয় ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা করা হয়েছে। ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন বিশিষ্ট সেতুটি নির্মাণ কাজ শেষ হলে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগে ৪০ মিনিট সময় কমে আসবে।

জাপান সরকার ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওবায়হী     করপোরেশন, তোয়া করপোরেশন অ্যান্ড জেইএফ ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে এই সেতুটি নির্মাণ করা হবে। সেতুর নির্মাণ কাজে ১৫০ জন জাপানি বিশেষজ্ঞ কারিগরি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগী হিসেবে কাজ পেয়েছে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান পার্ল এন্টারপ্রাইজ, মীর আকতার এন্টারপ্রাইজ, তমা এন্টারপ্রাইজ, ডিসিডিএল, আজম এন্টারপ্রাইজ, মোনায়েম এন্টারপ্রাইজ ও ম্যাক্স এন্টারপ্রাইজ।

ইতিমধ্যে পার্ল এন্টারপ্রাইজ ও ম্যাক্স এন্টারপ্রাইজ তাদের যন্ত্রপাতি রাখার স্থানের সীমানা ও কর্মচারীদের থাকার আবাসন নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। কিন্তু টাঙ্গাইলের দুই জন সংসদ সদস্য সেতু প্রকল্পে সহযোগী ঠিকাদার হিসেবে কাজ পেতে জোরালো চাপ দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে তারা জোর করে স্থানীয় একজন ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে দেশীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে জনবল সরবরাহ করছে।

এদিকে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেলসেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজে বিশৃংঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। গত ১৯ অক্টোবর রিভার অংশে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর মোবাইল ফোনে এক ব্যক্তি স্থানীয় একজন সংসদ সদস্যের রেফারেন্স ব্যবহার করে ঠিকাদারি কাজ দিতে হবে বলে জানান। কাজ না দিলে প্রকল্পের কাজ ও গাড়ির ক্ষতি করা হবে বলে হুমকি দেন। বিষয়টি ঐ প্রকৌশলী ই-মেইলে প্রকল্পের সিনিয়র প্রশাসনিক ম্যানেজারকে অবহিত করেন। বিষয়টি তদন্ত করে জানা যায় যে হুমকি প্রদানকারী ঐ ব্যক্তি স্থানীয় একজন সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ।

সূত্র জানায়, সেতু সংলগ্ন ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়ক বর্ধিত করার কাজেও ঐ দুই জন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ৯ নভেম্বর দুপুরে রাস্তার নির্মাণ কাজ চলাকালে একজন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ১০/১২ জন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। তারা ৩ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। এ ঘটনায় ঐ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ১৩ নভেম্বর ভূঞাপুর থানায় মামলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ভূঞাপুর থানার ওসি রাশিদুল ইসলাম বলেন, চাঁদা দাবি করার ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুই জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেছেন। তারা পলাতক রয়েছেন। তবে তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।