সারা দেশে নারীদের ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রগতিশীল নারী সংগঠনগুলোর ডাকে গতকাল শুক্রবার বিকালে রাজধানীর শাহবাগে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বক্তারা নারীদের ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতা-ধর্ষণ, নির্যাতন ও বিচারহীনতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সংগঠনের নেত্রীরা বলেছেন, সমাজ বর্বর ও অমানবিক হয়ে উঠেছে, এখন নারীদের মরেও শান্তি নেই। হাসপাতালের মর্গেও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এ অবস্থা রোধে গণসংগ্রাম গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। সমাবেশে নারী নেত্রীরা ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করে সারা দেশে মাসব্যাপী নারী সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নারী সেলের আহ্বায়ক লক্ষ্মী চক্রবর্তী বলেন, কেউ ধর্ষক হয়ে জন্ম নেয় না। এই সমাজ ধর্ষক সৃষ্টি করে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও সমাজের পৃষ্ঠপোষকতার কারণে ধর্ষকরা উত্সাহিত হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত দেশের এই অরাজক অবস্থা কারও কাঙ্ক্ষিত নয়। এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য আন্দোলনের বিকল্প নেই।
সমাবেশে অন্য বক্তারা বলেন, দেশে চলছে বিচারহীনতার সংস্কৃতি। নারী-শিশু ধর্ষণ-নির্যাতনের ১০০টি মামলার মধ্যে ৯৭টির কোনো বিচার হয় না। আদালত ধর্ষককে শাস্তি না দিয়ে ধর্ষণের শিকার নারীর সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। ক্ষমতা ও অর্থের দাপটে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। তাই নারীর ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতার বিরুদ্ধে গণসংগ্রাম গড়ে তোলার বিকল্প নেই। সমাবেশে ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। এসব দাবিতে সারা দেশের জেলায় জেলায় মাসব্যাপী নারী সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ধর্ষণ, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা; পাহাড়-সমতলে আদিবাসী নারীদের ওপর সব প্রকার যৌন ও সামাজিক নিপীড়ন বন্ধ করা; হাইকোর্টের নির্দেশানুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতনবিরোধী সেল কার্যকর করা; সম্পত্তির উত্তরাধিকারে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা, সিডও সনদের ২ এবং ১৬-১ (গ) ধারা স্বাক্ষর করে সিডও সনদের পূর্ণ অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করা, নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সব আইন ও প্রথা বিলোপ করা।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নারী সেলের আহ্বায়ক লক্ষ্মী চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে এবং সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর সভাপতি বহ্নিশিখা জামালী, বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত, নারী সংহতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাসলিমা আখতার, বিপ্লবী নারী ফোরামের সহ-সাধারণ সম্পাদক আমেনা আক্তার, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির মোশরেফা মিশু, সিপিবির জলি তালুকদার, আদিবাসী ইউনিয়নের রেবেকা সরেন প্রমুখ। এছাড়া বাম গণতান্ত্রিক জোটের শীর্ষ নেতারাও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
