মাস্ক একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় নিত্যদিনের সঙ্গী করোনা মহামারির এই সময়ে। বিশেষজ্ঞরা শুরু থেকেই মাস্ককে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় অন্যতম সুরক্ষাকবচ হিসেবে বলে আসছেন। সম্প্রতি সারা বিশ্বে কোভিড-১৯-এর দ্বিতীয় ঢেউ একের পর এক রেকর্ড করে যাচ্ছে। এক দিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর রেকর্ডও হচ্ছে নিয়মিতই। বাংলাদেশে সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট আক্রান্ত ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৭১১; সুস্থ ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬৭৬; মৃত্যু ৬ হাজার ৫৪৪ জন। এমতাবস্থায়, প্রতিষেধক বিহীন এই ভাইরাসের মোকাবিলায় একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে সচেতনতা ও মাস্কের ব্যবহার। ইতিমধ্যে সরকারিভাবে মাস্ক ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা হলেও স্বাস্থ্যসম্মত মাস্কের ব্যবহারে আমরা অতটা সচেতন হচ্ছি না। পুলিশ প্রশাসনের লাঠিচার্জের ভয়ে কিংবা সরকারি বিধিমালার কারণে অনেকে জোর করে মাস্ক পরেন। তাও দেখা যায় বেশির ভাগ সময় মাস্কটা পুলিশের ভয়ে পকেটে নিয়ে বের হচ্ছে, পুলিশ দেখলে মুখে দেন নয় তো পকেটেই শোভা পাচ্ছে। এদিন কর্ণফুলী কমপ্লেক্স চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারে সবজি কিনছিলাম। সবজি বিক্রেতার থুঁতনিতে মাস্ক ছিল, তার সহকারীর ছিল পকেটে। হঠাত্ করে পাশে একজন বলে উঠল পুলিশ আসছে মাস্ক পরুন। সবজি বিক্রেতা তখন নিজেরটাও মুখে পরিধান করল সঙ্গে তার সহকারীকেও নির্দেশ দিল। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, ঐ সহকারী, পুলিশ কোথায় দেখে বলল—আরে ভাই উনি আমাদের দাদা। অর্থাত্ পুলিশ ওনাদের পরিচিত। তাই আর মাস্ক পরারও কোনো প্রয়োজন নেই এবং পরেও নি। সত্যিকার চিত্র এমনি। মাস্ক কি তাহলে আমরা পুলিশের লাঠি খাওয়া থেকে বাঁচতে পরছি?
অন্যদিকে দেখা যায়, কেউ কেউ মাস্ক পরেছেন ঠিকই, কিন্তু যখনই কারো সঙ্গে কথা বলতে যাবেন তখনই মাস্কটা থুঁতনিতে নামিয়ে কথা বলেন। অর্থাত্ সারা দিন মুখে মাস্কটা পরে থাকেন, কিন্তু যেই কি না কারো সঙ্গে আলাপ করেন মাস্কটা মুখ থেকে নামিয়ে নিচ্ছেন। তাহলে মাস্ক ব্যবহারের উদ্দেশ্য কতটা সফল হলো? অথচ দরকারই ছিল কথা বলার সময় মাস্কটি আরো সতর্কতার সহিত মুখে সুন্দরভাবে পরা। গণমানুষের কাছে এই বিষয়ে সচেতনতা না আসলে করোনার মতো মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা নিশ্চিত কঠিন হবে।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, ব্যবহূত মাস্ক যেন যত্রতত্র না ফেলা হয়। ব্যবহূত মাস্ককে ডাস্টবিনে না ফেলে পুড়িয়ে ফেলার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সোনার বাংলার রাস্তাঘাট, অলিগলিতে মানুষের ব্যবহূত সার্জিক্যাল মাস্কের ছড়াছড়ি না দেখতে পাওয়াটাই যেন দুর্লভ চিত্র। সেই ৮ই মার্চ-১৯, বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হবার পর থেকে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকারিভাবে নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে সরকারের সব রকম পদক্ষেপ তখনই সফল হয়, যদি আমরা জনগণ সচেতন হই।
অথচ দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, গণপরিবহন, দোকানপাট থেকে শুরু করে হাটবাজার; কোথাও কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে নেমেছে মাস্ক পরতে মানুষকে বাধ্য করার জন্য। তবুও হুঁশ ফিরছে না আমাদের। আসুন আমরা পরিস্থিতির নাজুকতা মোকাবিলায় আরো সচেতন হই, মাস্ক ব্যবহারে নিজে আগ্রহী হই, অন্যকেও উদ্বুদ্ধ করি। কথা বলার সময় মুখের মাস্ক না নামিয়ে কথা বলি।
n লেখক :শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
