সাইদুর রহমান, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
বেলকুচির যমুনায় সম্প্রতি বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় জেগে উঠেছে বালু চর। এ অঞ্চলে বর্তমানে কৃষকরা পরিবারের লোকজন নিয়ে বাদাম বীজ বপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বেতিল, চাঁনপুর, ভাঙ্গাবাড়ী ক্ষিদ্রচাপড়ি, বেলকুচি চর, দেলুয়া, রতনকান্দী, সলিমাবাদ, রান্ধনীবাড়ী, বেলির চরসহ প্রায় অর্ধশত গ্রামের কৃষকরা এলাকায় বাদাম চাষ করছেন। চরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাদাম চাষের জন্য কৃষকরা জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ বাদামের বীজ বপন করছেন, কেউ লাঙল টানছেন আবার অনেক চাষি বীজ বপন করা জমি পরিচর্যা করছেন। অন্যদিকে চরাঞ্চলের নারীরাও বাদাম চাষে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন। কাজ করছে স্কুল পড়া ছোট ছোট ছেলে মেয়েরাও। ভোরের সূর্য না উঠতেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চাষিরা বালুর মাঠে বাদাম বীজ বপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
ক্ষিদ্রচাপড়ি চরের বাদাম চাষি আসাদুল মিয়া জানান, বিগত বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পুরোদমে বাদাম বীজ বপন ও ক্ষেতের পরিচর্যা শুরু করেছি। অল্প খরচ ও কম সময়ে বাদাম চাষে অধিক লাভবান হওয়া যায়। বাদাম চাষি সাদ্দাম হোসেন জানান, এ বছর প্রায় আট বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি।
বেলকুচি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্যাণ প্রসাদ পাল জানিয়েছেন, এ বছরে ধাপে ধাপে চারবার বন্যা হওয়ার কারণে কৃষকদের প্রচুর ক্ষতি হয়েছে, জমিতে নতুন মাটি পড়েছে। এরই মধ্যে যমুনার চরাঞ্চলে বাদাম চাষ শুরু হয়েছে। অনেক চরে বাদামের চারাও গজিয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরো জানান, সুস্বাদু, মুখরোচক ও ভিটামিন-সমৃদ্ধ এই ফসল এক দিকে যেমন খাদ্যে যোগান দিয়ে থাকে তেমনি তেলের চাহিদা পূরণ করে। বাদাম ক্ষেত থেকে কচি পাতা কেটে কৃষকরা তাদের গরু-ছাগলের খাবার যোগায়। এতে গরু-ছাগল তাড়াতাড়ি মোটাতাজা হয়। এ ছাড়া অন্য ফসলের মতো বাদামের জমিতে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় না। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বিগত বছরগুলোর চেয়ে এ বছর বাদাম উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।
