দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও দেড় বছর ধরে নেই একজন চালকও। অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা না পাওয়ায় সময়মতো চিকিত্সাসেবা নিতে পারছেন না উপজেলার ১ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে জরুরি চিকিত্সাসেবা নিতে এই উপজেলার মানুষকে ভরসা করতে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস অথবা ভটভটি ও রিকশাভ্যানের ওপর। এতে একদিকে যেমন দরিদ্র লোকজনকে বাড়তি ভাড়া গুণতে হচ্ছে, সেই সঙ্গে চালকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে নানারকম দুর্ভোগেও পড়তে হচ্ছে তাদের।
খানসামা উপজেলার প্রায় ২ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসাস্থল পাকেরহাটে অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা নেওয়ার পর রোগীদের উন্নত চিকিত্সার প্রয়োজন হলে স্থানান্তর হতে হয় দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অথবা রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু রোগীদের সেই সব হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩টি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক নেই একজনও।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সর্বশেষ অ্যামু্বলেন্স চালক প্রায় দেড় বছর আগে অনিয়মের দায়ে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার গাড়িচালক মিলন রায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাড়ি না থাকার সুবাদে কিছু দিন অ্যাম্বুলেন্স চালকের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার জন্য নতুন গাড়ি বরাদ্দ হলে মিলন রায় তার মূল দায়িত্বে ফিরে যান। এরপর দীর্ঘ দেড় বছর অতিবাহিত হলেও এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন কোনো অ্যাম্বুলেন্স চালক পদায়ন না হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স তিনটি অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গ্যারেজে দুটি ও খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে একটি অ্যাম্বুলেন্স। দীর্ঘদিন এভাবে পড়ে থাকায় অ্যাম্বুলেন্সগুলোর যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে সেখানে কিছু দিন আগে যোগদানকারী খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমি যোগদানের পরেই অ্যাম্বুলেন্সের চালক নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। এছাড়াও একাধিকবার মৌখিকভাবে আমি তাদেরকে জানিয়েছি। দ্রুততম সময়ে শূন্য পদে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক পদায়ন হলে এই উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবার মান আরো বৃদ্ধি পাবে।
