চট্টগ্রামের কেডিএস গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কেওয়াই স্টিলের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মুনির হোসেন খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন কেডিএস গ্রুপের আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহসানুল হক হেনা।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, মুনির হোসেন খান ২০০৭ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১১ বছর কেওয়াই স্টিলের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন। উক্ত পদে থাকা অবস্থায় তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাত্ করেছেন। তিনি ভুয়া কাগজপত্র করে কোম্পানিকে সবসময় সাফল্যের কথা বলতেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি কোম্পানির দায় ৩০০ কোটি টাকা থেকে হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করেছেন।
দুর্নীতির দায়ে মুনিরকে ২০১৮ সালে বরখাস্ত করা হয় জানিয়ে অ্যাডভোকেট আহসানুল হক হেনা বলেন, ঐ সময় তিনি কোম্পানিকে হিসাবপত্র বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে উনাকে বারবার ডাকা হলেও আর আসেননি। তিনি সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সরিয়ে ফেলেন, যা আমরা ব্যাংকে যোগাযোগ করে পেয়েছি।
অ্যাডভোকেট হেনা আরো বলেন, দুর্নীতির দায়ে মুনিরের বিরুদ্ধে ২৬টি মামলা হয়েছে, যার প্রতিটিরই আলাদা আলাদা কারণ রয়েছে। মুনিরের মাসিক বেতন ছিল ২ লাখ টাকা। কিন্তু তিনি কোম্পানির টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। তিনি নিজের নামে ফ্ল্যাট, মেয়ের নামে ইসাবেলা টাওয়ার এবং এলায়েন্স স্টিল ও মেরিনার্স ট্রান্সপোর্ট লিমিটেড নামে দুটি কোম্পানি গড়ে তুলেছেন। তিনি চাকরিরত অবস্থায় আমেরিকায় বাড়ি করেছেন। তার ছেলেমেয়েকে দেশ-বিদেশে নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) জাবের হোসেন, চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) রাকিবুল হাসান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠানের করা মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন কেডিএস গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কেওয়াই স্টিলের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মুনির হোসেন খান। এর আগে গত ২৫ নভেম্বর বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে ‘মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির’ অভিযোগ আনেন মুনির হোসেন খানের বাবা চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন খান। মোয়াজ্জেম হোসেন খানের দাবি, কেডিএস গ্রুপ হয়রানিমূলকভাবে তার ছেলের বিরুদ্ধে ২৬টি মামলা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারী মুনিরের মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছিলেন তিনি।
