রংপুরের পীরগাছার এক নিভৃত পল্লিতে ধর্ষণের শিকার ১১ বছরের এক শিশু জন্ম দিয়েছে আরেকটি শিশু! ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত রয়েলকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হওয়ায় ভার্চুয়াল আদালত থেকে জামিন পেয়ে এখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে নগদ অর্থসহ নানা ধরনের প্রলোভন দেখাচ্ছে। ঘটনাটি রংপুর জেলা পীরগাছা উপজেলার মিয়াপাড়া গ্রামের।
এ ঘটনায় গত ২৪ মে মামলা করে ধর্ষণের শিকার শিশুটির বাবা। মামলার পর রয়েলকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও এখন সে জামিনে রয়েছে। ধর্ষণের শিকার শিশুটির স্বজনদের অভিযোগ, অভিযুক্ত রয়েল এলাকার প্রভাবশালী ভূট্টুর ছেলে। ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া শিশুটির বয়স এখন সাড়ে তিন মাস। শিশুটির নাম রাখা হয়েছে শাকিব খান।
মামলার বাদী সাংবাদিকদের বলেন, ‘জন্ম নেওয়া শিশুটিকে কারো কাছে দত্তক দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে রয়েলের পরিবার। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ হিসেবে মেয়েকে ৩ লাখ টাকা আর আমাকে চার শতক জমি দিয়ে মীমাংসা করার জন্য বলছে। আমি তাদের এ বিচার মানি না। ঘটনাটি এলাকার সবারই জানা। কিন্তু প্রভাবশালী পরিবারের ক্ষমতার দাপটে আমরা অসহায়। আমার শিশু কন্যাটির ভবিষ্যত্ কি হবে এ নিয়ে আমি চিন্তা করি।’
এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের জন্য গণমাধ্যমের পাশাপাশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় নারী নেত্রীরা। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ রংপুরের সভাপতি হাসনা চৌধুরী জানান, অপরাধী যতই শক্তিশালী হোক গণমাধ্যমসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ভিকটিমের পাশে থাকলেই কেবল সুষ্ঠু বিচার পাবে অসহায় পরিবারটি।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ধর্ষক রয়েলের বাবার বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করত শিশুটির মা। আর ধর্ষণের শিকার মেয়েটি ঐ বাড়িতে একটি শিশুর দেখভাল করত। তাদের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নানা সময়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে রয়েল। একপর্যায়ে গর্ভবর্তী হয়ে পড়ে শিশুটি।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে ভিকটিমের পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলে ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। রয়েলকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিটও দাখিল করা হয়েছে।
