প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আরো হতাশ করেছে পেনসিলভেনিয়ার আপিল আদালত। নির্বাচনের ফল আটকে দিতে ট্রাম্প টিমের মামলা খারিজ করে আদালত বলেছে, অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। আর আইনজীবীরা নন, ভোটাররা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেন। এদিকে এক দিন পরই সুর বদলেছেন ট্রাম্প। শুক্রবার এক টুইট বার্তায় বলেছেন, বাইডেনকে হোয়াইট হাউজে ঢুকতে হলে অবশ্যই প্রমাণ দিতে হবে যে বিপুল জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি ৮ কোটি ভোট পাননি। খবর বিবিসি, সিএনএন ও রয়টার্সের।
পেনসিলভেনিয়ার আদালত মামলা খারিজ করে ট্রাম্প টিমকে তিরস্কার করেছে। তিন বিচারক প্যানেলের পক্ষে বিচারক স্টেফানোস বিবাস বলেন, অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি। কোনো নির্বাচনকে অস্বচ্ছ বললেই তা সঠিক হয়ে যায় না। ট্রাম্পের মনোনীত বিচারক বিবাস বলেন, যেকোনো অভিযোগ নির্দিষ্ট হতে হয় এবং তারপর প্রমাণ করতে হয়, যার কোনোটিই এখানে নেই। আর আইনজীবীরা নন, ভোটাররা প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেন। ব্রিফে নয়, ব্যালটে ফল নির্ধারিত হয়। এর আগে ডাকযোগের লাখ লাখ ভোট বাতিল চেয়ে ট্রাম্প টিমের মামলা খারিজ করে পেনসিলভেনিয়ার নিম্ন আদালত। সেই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়েছিল। ফেডারেল আপিল আদালতের সিদ্ধান্তের পর সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প টিমের আইনজীবী জেনা এলিস। যদিও ইতিমধ্যে পেনসিলভেনিয়ায় বাইডেনকে ৮০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে জর্জিয়ার একটি কাউন্টিতে ভোট পুনর্গণনায় আগের চেয়ে কিছু ভোট বেশি পেয়েছেন বাইডেন। ট্রাম্প টিম এই গণনার দাবি জানিয়েছিল।
প্রসঙ্গত, পেনসিলভেনিয়া ছাড়াও মিশিগান, নেভাদা, অ্যারিজোনা ও জর্জিয়ায় জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করেছে ট্রাম্প টিম। বেশির ভাগ মামলা আদালতে খারিজ হয়েছে। আগামী ১৪ ডিসেম্বর ইলেকটররা মিলিত হবেন এবং তাদের রাজ্যে জয়ীকে ভোট দেবেন। সাধারণত রাজ্যে পপুলার ভোটে জয়ী প্রার্থীকেই ঐ রাজ্যের সব ইলেকটর ভোট দেন। ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে কংগ্রেসকে ইলেকটরদের ভোট গ্রহণ করতে হবে এবং ৬ জানুয়ারি গণনা ও ফল নিশ্চিত করতে হবে। আর ২০ জানুয়ারি শপথ নেবেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে জো বাইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে জয়ী হলে তিনি হোয়াইট হাউজ ছেড়ে দেবেন। কিন্তু এক দিন পরই সুর বদলেছেন। শুক্রবার এক টুইট বার্তায় তিনি বলেছেন, এবারের নির্বাচনে বড় জালিয়াতি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেন তখনই হোয়াইট হাউজে প্রবেশ করতে পারবেন, যখন তিনি প্রমাণ দেবেন জালিয়াত করে ৮ কোটি ভোট তিনি পাননি।
