চট্টগ্রামে করোনায় সংকটাপন্ন রোগী বেড়েছে

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২০, ২২:৩৬

চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত সংকটাপন্ন রোগী বাড়ছে। জ্বর, হাঁচি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে প্রতিদিন অনেক রোগী সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। প্রাইভেট চেম্বারেও রোগীর চাপ বেড়েছে। নগরীর হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ বেড খালি নেই।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক অনুষ্ঠান বেড়ে গেছে।  কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে প্রতিদিন নানা অনুষ্ঠান হচ্ছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছেন। তারপরও মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৯২টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৮৮ জন পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। গত ২ সপ্তাহ ধরে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। চট্টগ্রামে করোনায় এই পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে গ্রামের চেয়ে শহরে বেশি। চিকিত্সকরা জানান, শনাক্ত হওয়ার পর অনেকেই বাসায় থেকে চিকিত্সা নিচ্ছেন। আবার অনেক রোগী চিকিত্সকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ সেবন করছে। যখন শারীরিক অবস্থা খারাপ হচ্ছে তখনই রোগীরা হাসপাতালে ছুটে যাচ্ছে। এতে রোগীর অন্যান্য রোগ থাকলে সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে।

চিকিত্সকরা জানান, বর্তমানে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে  ধরনগত পরিবর্তন হয়েছে। এখন  আক্রান্তদের শ্বাসকষ্ট দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বায়ুর আর্দ্রতা বাড়ায় ভাইরাস বায়ুতে অবস্থান করায় আক্রান্ত বেশি হচ্ছে। ফৌজদারহাট বিআইটিডিআইর সহযোগী অধ্যাপক ডা. মামুনুর রশিদ বলেন, করোনা রোগের ধরনগত পরিবর্তন হয়েছে। আগে দুই/তিন দিনের মধ্যে উপসর্গ কমে গেলেও এখন সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় নিচ্ছে। আমাদের হাসপাতালে গত দুই সপ্তাহ যাবত্ রোগীর চাপ বেড়ে গেছে।’

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগী অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানেও ১২০ জন করোনা রোগী ভর্তি রয়েছে। তার মধ্যে চার/পাঁচ জন অতি সংকটাপন্ন। যাদের আইসিইউতে রাখা হয়েছে। চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হুমায়ূন কবির ইত্তেফাককে বলেন, করোনা রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় শয্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ২০০ বেডের সঙ্গে অক্সিজেন যুক্ত রয়েছে। করোনা বেড ২৫০ থেকে ৩০০ পর্যন্ত উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’

চট্টগ্রামে কোভিড রোগী সরকারি চিকিত্সাকেন্দ  চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালেও রোগীর চাপ বেড়েছে। বর্তমানে ৪৫ জন করোনা রোগী চিকিত্সাধীন রয়েছে। ১০টি আইসিইউ বেডে রোগী ভর্তি রয়েছে। নগরীর প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে কোনো আইসিইউ বেড খালি নেই। প্রাইভেট ন্যাশনাল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউসুফ ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের হাসপাতালে ২৫ জন করোনা রোগী ভর্তি রয়েছে। সবার অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে। আগ্রাবাদ মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে প্রায় ৮০ জন করোনা রোগী চিকিত্সাধীন রয়েছে। এখানে আলাদা করোনা ওয়ার্ড করা হয়েছে।