সুন্দরবনের দুবলার চরে রাস উত্সব আজ শুরু

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২০, ২২:৩৭

সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলার চরে আজ রবিবার রাতে রাস পূর্ণিমার পূজা ও আগামীকাল সোমবার ভোরে জোয়ারে পুণ্যস্নান অনুষ্ঠিত হবে। এবারের রাস পূর্ণিমার পূজা ও পুণ্যস্নানে অংশ নিতে সুন্দরবন বিভাগ থেকে পাস-পারমিট নিয়ে গতকাল শনিবার দুবলার চরে রওনা করেছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। তবে, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার শর্তে সাপেক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা ও পুণ্যস্নানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে দুবলার চরে যেতে পারবে না কোনো পর্যটক ও অন্য ধর্মের মানুষ। আজ দুবলার চরে রাস পূজা ও আগামীকাল সকালে বঙ্গোপসাগরে প্রথম জোয়ারে পুণ্যস্নানের মধ্যদিয়ে রাস পূজা শেষ হবে।

এসব হিন্দু পুণ্যার্থীরা পাঁচটি রুট দিয়ে সুন্দরবনের দুবলার চরে যাওয়া শুরু করেছে। এই পাঁচটি রুটের মধ্যে রয়েছে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলার বগি-বলেশ্বর হয়ে দুবলা ও মোংলার পশুরনদী হয়ে সরাসরি দুবলা, এই দুই পথ দিয়ে বন বিভাগের বেঁধে দেওয়া করোনা বিধি নিষেধ মেনে দুবলার চরে যেতে হবে পুণ্যার্থীদের। এ ছাড়া পশ্চিম সুন্দরবন দিয়েও যাওয়ার জন্য রয়েছে আরো তিনটি পথ। এই পাঁচটি পথের বাঁকে বাঁকে থাকবে বন বিভাগের তল্লাশি ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই পথ ব্যতিরেকে অন্যপথে চোরাইভাবে কেউ যাওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবে বন বিভাগ। তবে, এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে রাস উত্সব উপলক্ষ্যে হচ্ছে না কোনো মেলা। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, প্রতি বছর বাংলা কার্তিক মাসের শেষে বা অগ্রহায়ণের প্রথম দিকের ভরা পূর্ণিমার তিথিতে এ রাস পূজা ও স্নান উদ্যাপিত হয়ে আসছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এ সময় পূর্ণিমার জোয়ারের লোনা পানিতে স্নান করে তাদের পাপ মোচন হবে এমন বিশ্বাস নিয়ে রাস পূজায় যোগ দিয়ে থাকেন। গতকাল থেকে পূজারীরা সুন্দরবনের দুবলার চরের উদ্দেশ্যে ট্রলার ও নৌকা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। তিনি আরো বলেন, এর আগে ২০১৯ সালে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে এবারের মতো শুধুমাত্র রাস পূজা ও পুণ্যস্নান হয়েছে। গত বারের মতো এবারও হচ্ছে না কোনো মেলা।

মোংলা কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন এম হাবিব উল আলম জানান, রাস পূর্ণিমা উত্সব উদ্যাপনে কোস্টগার্ডের নিজস্ব প্রস্তুতির পাশাপাশি র্যাব, বনবিভাগ ও নৌপুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।