আয় কমে যাওয়ায় আয়করের স্তরেও পরিবর্তন দাবি

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২০, ২১:২০

করোনাকালে এবার আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমার হার কমে গেছে ব্যাপক হারে। তুলনামূলক অর্ধেক রিটার্ন জমা পড়েছে এবার। করোনার কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। মহামারির এ পরিস্থিতিতে মানুষ এখন জীবন ও জীবিকা নিয়েই ভাবছে বেশি। ফলে অনেকেরই আশা ছিল এবার রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়বে; কিন্তু গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে এই সময় বড়বে না বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। করোনার এই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাধারণ মানুষকে প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি রিটার্ন জমাদানের সময় বাড়ানো হয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই সুযোগ পাওয়া গেলেও এই সুযোগ মিলছে না বাংলাদেশে। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে সাধারণ মানুষের আয় কমে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে। অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করছে; কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা নিয়ে উদ্বিগ্ন খোদ সরকারি মহলেও। এমন পরিস্থিতিতে আয়কর বিবরণী দাখিলের সময় বাড়বে—এমনটাই প্রত্যাশা ছিল সবার। জরিমানা শিথিলের বিষয়ে এনবিআরের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও কারা এর আওতায় পড়বে সে বিষয়টি স্পস্ট নয়। ফলে এখানেও করদাতাদের জন্য সুখবর নেই। অনেক আয়করদাতা বলছেন, করোনার কারণে এবার বহু প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করেছে। বেতন-ভাতা কমিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে অহরহ। বহু আয়করদাতার আয় কমে যাওয়ার পরেও করের স্তর অপরিবর্তিত থাকায় আগের মতোই কর দিতে হবে। যেখানে জীবন-জীবিকার সংকট, সেখানে কর দেওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে যাবে। বিশেষ করে ন্যূনতম করহার কমানোর দাবি এখন বহু আয়করদাতার। ফলে এবার রিটার্ন জমা দেওয়ার হারও অনেক কমে গেছে। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। করোনার কারণে মানুষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারছে না। আবার অনেকের আয়ও কমে যাওয়ায় রিটার্ন জমা দেওয়ায় আগ্রহ কমে গেছে। সবমিলিয়ে যেহেতু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা অনেক কম হয়েছে, ফলে এনবিআরের হাতে থাকা বিশেষ ক্ষমতায় জরিমানা বাদে সময় বাড়ানোর দাবির যৌক্তিকতা রয়েছে। বিষয়টি এনবিআরের অভ্যন্তরেও আলোচনা হচ্ছে।