যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল

হেলে পড়া ভবনের ভাগ্য থমকে আছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায়

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২০, ২১:২৯

তিন বছর আগে দোতলা ভবনটির ছাদ ও গ্রিল হেলে পড়ে। এরপর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি থেকে রোগী ও চিকিত্সা কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়া হয়। অথচ আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তিন বছরেও ভবনটি অপসারণের উদ্যোগ থমকে আছে। উপরন্তু সেই ভবনটিতেই রোগীদের চিকিত্সা কার্যক্রম শুরু করেছে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, ১৯৫৬ সালে হাসপাতালের এই ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ২০০৭ সালে প্রথম দোতলার প্লাস্টার ভেঙে পড়ে। তখন থেকে প্রতিবছর ভবনটি গণপূর্ত বিভাগ সংস্কার করে আসছিল। ২০১৩ সালে ভবনটি দোতলার দুইপাশে ফাটল দেখা দেয়। তখনও এটা মেরামত করা হয়। সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই দোতলার মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের টপ ওয়াল ও গ্রিল হেলে পড়ে। ঐ সময় গণপূর্ত বিভাগ ভবনটি পরিদর্শন করে রোগী রাখা যাবে এবং আশু দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা নেই বলে মত দেয়। এর দুদিন পর ১ আগস্ট সেই গণপূর্ত বিভাগই নিচতলার ছাদে বাঁশের খুঁটি লাগিয়ে ভাঙন ঠেকানোর উদ্যোগ নেয়। এতে হাসপাতালের রোগী ও চিকিত্সাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীদের সরিয়ে নেয়। পরিত্যক্ত ভবনটির দোতলায় মহিলা মেডিসিন এবং নিচে সার্জারি ওয়ার্ডের শতাধিক রোগী ভর্তি থাকতেন।

এরপর থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভবনটি কনডেমেশন ঘোষণা ও নিলাম করার ব্যাপারে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে চিঠি লেখালেখি শুরু করে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের নির্মাণ শাখা ৫ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে পুরাতন জরাজীর্ণ ভবন অকেজো ঘোষণা করার জন্য একটি কমিটি গঠন করে। কিন্তু গত তিন বছরে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তার কেউই স্ব স্ব দায়িত্বে না থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি থমকে যায়। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন ইত্তেফাককে বলেন, এ ধরনের কোনো কমিটির কথা তিনি জানেন না। জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কথা জানেন না বলে জানান। একই কথা বলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম এবং পরিচালক (হাসপাতাল) ফরিদ হোসেন মিয়া।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় বলেন, হাসপাতালে কনডেমেশন ও নিলামযোগ্য কমিটি আছে কি না, তার পরিপত্র হাসপাতাল অফিসে নেই। এ জন্য তত্কালীন তত্ত্বাবধায়ক গণপূর্ত বিভাগ ঘোষিত ব্যবহারের অযোগ্য ভবন কনডেমেশন ও নিলাম করতে পারেননি। ফলে পরিত্যক্ত ভবনের স্থলে নতুন ভবন তৈরি করা সম্ভব না। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের চিঠি অনুযায়ী দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য তিনি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও সচিবের কাছে চিঠি দিয়েছেন।

গণপূর্ত অধিদপ্তর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী ফ্রান্সিস আশীষ ডি কস্তা বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো ভবনের কনডেমেশন করার এখতিয়ার আমাদের নেই। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা দরকার। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্টভাবে চিঠি না এলে কনডেমেশনের দায়িত্ব কেউ নেবে না। এদিকে তিন বছর আগে গুটিয়ে আনা ভবনটিতে গত মে মাস থেকে ফের রোগী রাখতে শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ভবনের নিচতলায় পুলিশ ব্যারাক স্থাপন করা হয়েছে। ভবনের আরেক দিকে হাসপাতালের সংস্কার কাজের কর্মীরাও ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন।