তিন পাশে ফসলি জমি, গাছপালা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর বাড়িঘর। এক পাশে শীলা নদী। তার মধ্যে অবৈধ ড্রাম চিমনির ইটভাটা। এ দশা গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার চামুরথা গ্রামে। ঐ ইটভাটায় প্রতিদিন কয়েক শ মণ কাঠ পোড়ানো হয় বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা। কাঠ পোড়ানোর কারণে ভাটা থেকে কালো ধোঁয়া ও ছাই বের হয়। এতে পার্শ্ববর্তী খেতের ফসল বিনষ্ট হচ্ছে, ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁঁকি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রামটিতে হাজারখানেক পরিবার বাস করে। এরই মধ্যে দুই বছর আগে গ্রামের শামছুল হক ফাজিল মাদ্রাসার পাশে তিন ফসলি জমিতে এমবিবি নামের ড্রাম চিমনির ইটভাটাটি স্থাপন করা হয়। চলতি মৌসুমে ইটভাটাটি চালুর উদ্যোগ নিলে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দেয়। এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহের বিভাগীয় পরিচালক ফরিদ আহমদে ও উপপরিচালক মিহির লাল সরকারের নেতৃত্বে একটি টিম গত ২১ নভেম্বর শনিবার এই ইটভাটায় অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এমবিবি ইটভাটার মালিক হাবিবুল্লাহকে অবিলম্বে এই অবৈধ ইটভাটার সব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু এসবের তোয়াক্কা না করেই চলছে ভাটাটি। এ ব্যাপারে ইটভাটার মালিক মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আমাদের ইটভাটা পরিদর্শন করে গেছেন। বিষয়টি নিয়ে আমাদের ইটভাটা সমিতির সঙ্গে কথা বলেছেন। গত বছরও এ রকম সমস্যা ছিল। ইটভাটা চালিয়েছেন। এবারও চালাচ্ছেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শেখ শাহাবুদ্দিন বলেন, এ রকম ইটভাটা এলাকার ক্ষতি করে। প্রতিবারই প্রশাসনের লোকজন আসে। আবার ইটভাটাও চলে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম বলেন, লোকালয়, ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ বলেন, ড্রাম চিমনির এই অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে সব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। খবর পেয়েছি, নির্দেশ অমান্য করে ইটভাটাটি চালু করা হয়েছে। অচিরেই অভিযান চালিয়ে ইটভাটাটি উচ্ছেদ করে দেওয়া হবে।
