২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির আত্মঘাতী বোমা হামলার ১৫তম বার্ষিকী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে গতকাল দিনব্যাপী জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে ছিল—কালো ব্যাজধারণ ও কালো পতাকা উত্তোলন, নিহতদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শোক র্যালি, শোকসভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আ. ছোবহানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাকির উদ্দিন আহাম্মদের সঞ্চালনায় শোকসভায় বক্তব্য রাখেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমতউল্লাহ খান, সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কালাম, গাজীপুর বারের সাবেক সভাপতি ও জিপি আমজাদ হোসেন বাবুল, অ্যাডভোকেট ওয়াজ উদ্দিন মিয়া, মো. সুলতান উদ্দিন, রফিক উদ্দিন আহমেদ, আব্দুস সাত্তার, ভারপ্রাপ্ত পিপি মকবুল হোসেন কাজল প্রমুখ।
এর আগে সকালে গাজীপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মমতাজ বেগম, জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল আলম, স্থানীয় আইন কর্মকমিশন, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম পৃথকভাবে শহিদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ২০০৫ সালের এ দিনে গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির ২ নম্বর হলরুমে জেএমবির আত্মঘাতী বোমা হামলায় চার আইনজীবী, চার বিচারপ্রার্থীসহ হামলাকারী জঙ্গি নিহত হয়। হামলায় আরো অর্ধশতাধিক আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী আহত হন। পরে আহত অবস্থায় আরো একজন আইনজীবী মারা যান।
নৃশংস এ বোমা হামলায় নিহত আইনজীবীরা হলেন আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আমজাদ হোসেন, অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল আজিম, অ্যাডভোকেট নুরুল হুদা, অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক অভি ও অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন মাখন। নিহত বিচারপ্রার্থীরা হলেন—আব্দুর রউফ, বশির মেম্বার, শামসুল হক ও মর্জিনা বেগম। আত্মঘাতী জঙ্গির নাম শরিয়ত উল্লাহ ওরফে আসাদুল ইসলাম। এর দুই দিন পর ১ ডিসেম্বর দুপুরে আবারও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে জেএমবি বোমা হামলা চালায়। এতে কৃষি কর্মকর্তা আবুল কালাম সরকার নিহত এবং সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম, বেলাল হোসেন, নজরুল ইসলাম বাদামীসহ ২৫ জন আহত হন। এদিন জেএমবির এক আত্মঘাতী সদস্য ফ্ল্যাক্স বোমা হামলা চালায়।
