ঝুঁকিপূর্ণ রেলক্রসিংয়ে অটোরিকশার জটলা

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২০, ২২:২০

রেলক্রসিংয়ে ট্রেন আসার সংকেত পড়ে গেছে। অথচ রেললাইন থেকে এখনো সরানো যাচ্ছে না অটোরিকশা। কারণ রেল আসার সংকেত পড়ার আগেই সেখানে অটোরিকশার জটলা। তারপরেও ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা আনসার বাঁশি বাজিয়ে সরানোর চেষ্টা করছেন। ট্রেন ক্রসিং পার হওয়ার বড়জোর ৩০ সেকেন্ড বাকি। এরই মধ্যে বহু চেষ্টা করে রেললাইন থেকে অটোরিকশা সরাতে সক্ষম হন আনসার সদস্যরা। এটি বিমানবন্দরের রেলক্রসিংয়ের সন্ধ্যার পরের চিত্র। প্রতিদিনই এমন অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় ট্রেনযাত্রী ও আশপাশের লোকজন। অটোরিকশার জটলার কারণে সৃষ্টি হয় যানজট।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা বিমানবন্দর রেল স্টেশনের পাশে আশকোনা এলাকায় কয়েক শ অটোরিকশা চলাচল করছে। স্থানীয়দের মতে, এ সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে। বিমানবন্দর রেলক্রসিং থেকে এসব অটোরিকশা বড়ুড়া, হলান, দক্ষিণখান, আশকোনা, নর্দাপাড়া ও চাঁদনগরে চলাচল করে। যার কারণে এসব অটোরিকশা জটলা বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকে এই ঝুঁকিপূর্ণ রেলক্রসিংয়ের ওপর। এটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিমানবন্দর ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগে দিনের বেলা হজক্যাম্প পর্যন্ত এই অটোরিকশা চলতে দিলেও রাতে রেললাইনের ওপর এসে দাঁড়ায়।

চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা প্রতিমাসে ৭০০ টাকা চাঁদার বিনিময়ে অটোরিকশা সড়কে নামিয়েছে। টাকা না দিলে তারা অটোরিকশা চালাতে পারেন না। আশকোনা থেকে বিভিন্ন সড়কে একেক জন চাঁদা তোলে বলে তারা জানান। এর মধ্যে চাঁদনগরের চাঁদা তোলে লিটন হোসেন নামে এক ব্যক্তি। আর নর্দাপাড়ায় চাঁদা তোলে শামীম হোসেন। এ ছাড়া দক্ষিণখানের রিকশা থেকে শ্রমিক লীগের নামে টাকা তোলা হয় বলে জানান চালকরা।

এ বিষয়ে বিমানবন্দর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা অনেকগুলো রিকশা ডাম্পিং করেছি। এছাড়া যেহেতু দক্ষিণখান এলাকায় চলাচলের জন্য কোনো বাহন নেই। সে কারণে এগুলো চলছে। ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে আনসার সদস্যরা অটোরিকশা রেললাইনের ওপরে না আসার জন্য কাজ করছে। তারপরেও বেশির ভাগ সময় চালকরা রেললাইনের ওপর চলে আসে। কয়েক দিন এ ব্যবস্থা ঠিক থাকলেও কিছুদিনের ভেতর এ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। রিকশাপ্রতি চাঁদা ওঠার বিষয়ে তিনি বলেন, বিভিন্নভাবে এসব অটোরিকশার সঙ্গে অনেকেই জড়িত। আমরা চাইলেও কিছু করতে পারি না। অবৈধ বিদ্যুতের লাইন দিয়ে এগুলো চার্জ দেওয়া হয়। এসব চলাচল বন্ধ করতে হলে সবাইকেই এগিয়ে আসতে হবে। তাছাড়া আমাদের পক্ষে এসব বন্ধ করা কষ্টকর হয়ে পড়ছে।’