আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বিডি নিউজ জানায়, হান্নান খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, আব্দুল হান্নান খান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ড, জেলহত্যা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ ও দলিলপত্র সংগ্রহ ও উপস্থাপনের মাধ্যমে এ সব মামলার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক শোকবার্তায় বলেন, আইসিটির তদন্ত শাখার প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে তিনি সততা ও সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন।
জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি ও সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম এক বিবৃতিতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আব্দুল হান্নান খান ছিলেন একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ, সাহসী এবং নীতি ও আদর্শবান ব্যক্তিত্ব।
নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলায় এম আব্দুল হান্নান খানের জন্ম ১৯৪৭ সালে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে এমএ ছাড়াও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে বিসিএস প্রথম ব্যাচে পুলিশ বিভাগে এএসপি হিসেবে যোগদান করেন। পুলিশের অতিরিক্ত আইজি হিসেবে চাকরি জীবন থেকে অবসরে যান। এরপর তাকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদমর্যাদায় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে ২০১১ সালে নিয়োগ দেওয়া হয়।
হামুদুর রহমান শিক্ষা কমিশন আন্দোলনে কিশোরগঞ্জ মহকুমার ছাত্র সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ছিলেন। ১৯৬৪ সালে ডাকসু নির্বাচনে সদস্য নির্বাচিত হন। একই বছর কার্জন হলে অনুষ্ঠিত কনভোকেশনে মোনায়েম খানের হাত থেকে সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা অস্বীকৃতির ঘটনায় ছয় মাস জেল খাটেন তিনি। ১৯৭১ সালে ১১ নং সেক্টরের সাব সেক্টরে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সকল স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
