রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলা লড়তে ওআইসিকে সোয়া ৪ কোটি টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২০, ২২:৫০

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গা গণহত্যা প্রশ্নে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার আইনি লড়াইয়ে সহায়তা করতে ৫৭টি মুসলিম দেশের সংগঠন ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের চলমান বৈঠকে তহবিল সংগ্রহ অভিযানে বাংলাদেশ ৫ লাখ মার্কিন ডলার (৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা) প্রদান করেছে। ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থাতে (ওআইসি) বাংলাদেশের প্রতিনিধি স্থায়ী প্রতিনিধি ও সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূূত ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী বলেন, গাম্বিয়াকে আইনি লড়াইয়ে সহায়তা দেওয়ার জন্য আমরা ইতিমধ্যে ওআইসির তহবিলে এ অর্থ প্রদান করেছি।

নাইজারে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলে (সিএফএম) ঢাকার প্রতিনিধিদলে নেতৃত্বদানকারী জাভেদ পাটোয়ারী বলেন, ওআইসির জেনারেল সেক্রেটারিয়েট এখন আইসিজেতে গাম্বিয়ার লড়াইয়ে সহায়তার জন্য একটি বিশেষ হিসাব খুলেছে। আর পশ্চিম আফ্রিকার দেশটিও তহবিলের জরুরি প্রয়োজনের ইঙ্গিত দিয়েছে।

গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী দাউদা এ জালো সিএফএম-এ রোহিঙ্গা মামলার সর্বশেষ অবস্থা উপস্থাপন করতে গিয়ে বলেন, এ আইনি মামলার জন্য আমি ওআইসির সদস্য দেশগুলোর কাছে জরুরি, স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের আহ্বান জানাচ্ছি। সিএফএম-এ রোহিঙ্গা সংকট মূল আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে আসে। তিনি বলেন, মামলাটি চালাতে বিশেষ করে আইনজীবীদের অর্থ প্রদানের জন্য গাম্বিয়ার প্রায় ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দরকার। এই মামলার বাদীপক্ষে দাঁড়ানোর জন্য ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি নামি আইন সংস্থাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে জালো বলেন, দুর্ভাগ্যের বিষয় আইনি সংস্থাটি সেপ্টেম্বর ২০১৯ সাল থেকে যে আইনি সেবা দিয়ে আসছে সেজন্য তারা এখনো তেমন উল্লেখযোগ্য অর্থ পায়নি। গাম্বিয়ার মন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, ওআইসির যে কোনো অসমন্বিত পদক্ষেপ মামলাটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং বিষয়টিকে আরো জটিল করতে পারে।

ওআইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, ঢাকা ছাড়াও ওআইসির ৫৭ সদস্যের মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও নাইজেরিয়া এ পর্যন্ত আইসিজে এ মামলায় গাম্বিয়াকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।

শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ওআইসির দুই দিনের গুরুত্বপূর্ণ ৪৭তম সিএফএম অধিবেশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তার দেহে কোভিড-১৯ শনাক্ত হওয়ায় তিনি তার নির্ধারিত নাইজার সফর বাতিল করতে বাধ্য হন।

এদিকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত ওআইসির সদস্য দেশগুলোর প্রতি রাজনৈতিক ও মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া ফিলিস্তিনসহ মুসলিম উম্মাহর বিভিন্ন বিষয়ে আরো সুসংহত পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়েছে বাংলাদেশ।