সরকারের ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে মিলমালিকদের সাড়া নেই। গত ২৬ নভেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে চুক্তির কথা বলা হলেও কোনো মিলমালিক চুক্তিবদ্ধ হননি। কৃষকেরা ইতিমধ্যে তাদের উদ্বৃত্ত ধান-চাল বিক্রি করে ফেলেছেন। তাদের কাছে বিক্রি করার মতো ধান-চাল নেই। মিলমালিকেরা জানান, বাজারদরের চেয়ে সরকারনির্ধারিত মূল্য অনেক কম। ফলে কৃষকেরা খোলাবাজারে ধান-চাল বিক্রি করে দিচ্ছেন।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বর্তমানে বাজারে প্রতি ক্যাটাগরির চালের দাম বাড়তি। বিশেষ করে চিকন চালের দাম ক্রমশ বাড়ছে। ফলে কৃষক তাদের সুবিধামতো বাড়তি দামে ধান-চাল বিক্রি করছেন। এখন আমনের ভরা মৌসুম। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দুই ধরনের লোক ধান কিনে গুদামে মজুত করছেন। মিলমালিক ও মধ্যস্বত্বভোগীরা ধান কিনে মজুত করার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। মিলমালিকদের সরকারি লাইসেন্স থাকলেও মৌসুমি মধ্যস্বত্বভোগীদের কোনো লাইসেন্স নেই। এক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো তদারকি নেই।
চাক্তাই রাইচ মিলের মালিক আবুল বশর ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা এখনো চুক্তি করিনি। বাজারে দাম বেশি, তাই সরকারনির্ধারিত দরে ধান-চাল সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না। তার পরও কিছু সেদ্ধ চাল দেওয়ার চেষ্টা করছি।’ চাক্তাই রাইচ মিল মালিক সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকার সেদ্ধ ও আতপ চালের দাম কেজিপ্রতি ৩৭ ও ৩৬ টাকা নির্ধারণ করেছে। অথচ ধান কিনে চাল তৈরি করতে কেজিতে খরচ পড়ছে ৪০-৪১ টাকা। ধান-চাল সরকারনির্ধারিত দামের চেয়ে খোলাবাজারে বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।
খাদ্য বিভাগ জানায়, সরকার ধান প্রতি কেজি ২৬ টাকা, চাল আতপ ৩৬ টাকা ও সেদ্ধ ৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে মিলমালিকদের ২৬ নভেম্বরের মধ্যে চুক্তির কথা বলা হলেও চট্টগ্রামে এখনো পর্যন্ত কোনো মিলমালিক চুক্তিবদ্ধ হননি। চট্টগ্রামে ৫ হাজার ৪২০ মেট্রিক টন ধান, ২ হাজার ১৫১ মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল ও ২ হাজার ৬৩৮ মেট্রিক টন আতপ চাল ক্রয়ের টার্গেট করা হয়েছে। কিন্তু সরকারি দরে ধান-চাল পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক আবু নঈম মো. শফিউল আলম বলেন, এখনো পর্যন্ত ধান সংগ্রহ হয়নি। সাড়ে ৬০০ টন চাল সরবরাহের সাড়া পেয়েছি। মিলমালিকদের সঙ্গে চুক্তি করার সময়সীমা আগামী ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
