শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন জানিয়েছেন, সরকারি প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে ২০ হাজার কোটি টাকা সিএমএসএমই খাতের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত মঞ্জুরকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৭০ কোটি টাকা। সরকারের ঘোষিত নীতিগত ও আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে যেন কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাগণ বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে লক্ষ রাখা প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
গতকাল রবিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘শিল্পনীতির সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক ওয়েবিনার রবিবার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান এবং পল্লি কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. মো. মাসুদুর রহমান।
স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, শিল্পনীতিতে কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের একটি সার্বিক গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা থাকা প্রয়োজন। এজন্য পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব করেন তিনি।
অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান বলেন, এসএমইদের সংজ্ঞায়নে বেশ সমস্যা রয়েছে, যা নিরসন করা প্রয়োজন। প্রণোদনার টাকা ফেরত দেওয়ার সময়সীমা অন্তত দুই বছর বাড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সেই সঙ্গে এসএমইদের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজে বরাদ্দের পরিমাণ আরো বাড়ানোর প্রস্তাব করেন।
এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. মো. মাসুদুর রহমান জানান, আমাদের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ২৫ শতাংশ, যেখানে প্রতিবেশী ভারতে এর পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশ। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এসএমই খাতের উন্নয়নে সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের কোনো বিকল্প নেই।
ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের অধ্যাপক ড. মো. আবু ইউসুফ। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে টেকসই উন্নয়ন হলেও কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়নি।
