প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বাংলাদেশের চিত্রশিল্প প্রসারে পঞ্চাশ দশক থেকে শুরু করে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেন। তিনি বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশে শিল্প, সংস্কৃতি, সাংবাদিকতা ও শিক্ষাক্ষেত্রে বিরামহীন কাজ করেছেন। দেশের সংবাদপত্র ও বই প্রকাশনাকে আধুনিক শিল্পকর্ম প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেছেন যেসব শিল্পী, কাইয়ুম চৌধুরী তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি বইয়ের প্রচ্ছদ ও অঙ্গসজ্জায় এনেছেন নতুনধারার সৃষ্টিশীলতা। সংবাদপত্রের অঙ্গসজ্জাতেও তিনি দিয়েছেন বৈচিত্র্যময়তা। ঢাকায় আর্মি স্টেডিয়ামে ২০১৪ সালের ৩০ নভেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন। ১৯৩২ সালের ৯ মার্চ তিনি ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৬২ সালে সারা পাকিস্তানে চিত্র প্রদর্শনীতে কাইয়ুম চৌধুরীর শিল্পকর্ম প্রথম পুরস্কার পায়। ১৯৬৫ সালে সৈয়দ শামসুল হক পরিচালিত ‘ফির মিলেঙ্গে হাম দোনো’ ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসাবেও কাজ করেন তিনি।
১৯৬৫ সালে শিল্পী পুনরায় যোগ দেন আর্ট কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৯৪ সালে অধ্যাপক কাইয়ুম চৌধুরী অবসরে যান, কিন্তু ২০০২ সাল পর্যন্ত এখানে শিক্ষকতা করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় শিল্পীদের নিয়ে গঠিত ‘চারুকলা শিল্পী সংগ্রাম পরিষদ-এর আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। শিল্প, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য সরকার শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীকে একুশে পদক (১৯৮৪) ও স্বাধীনতা পদক (২০১৪) প্রদান করে। এ ছাড়াও বঙ্গবন্ধু পুরস্কার (১৯৭৪), জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রের শ্রেষ্ঠ প্রচ্ছদ পুরস্কার (১৯৭৫), বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭৭), সুলতান পদকসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।
