৮৬ শতাংশ মানুষের আস্থা দুদকের দায়িত্ব আরো বাড়িয়ে দিয়েছে —দুদক চেয়ারম্যান

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০০:৩০

দুদকের প্রতি দেশের ৮৬ শতাংশ মানুষের আস্থা থাকায় তাদের দায়িত্ব আরো বেড়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। গতকাল রবিবার গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) ‘গ্লোবাল করাপশন ব্যারোমিটার এশিয়া ২০২০’ শীর্ষক প্রতিবেদেন বলা হয়েছে, ‘দেশের ৮৬ শতাংশ মানুষ দুদকের প্রতি তাদের আস্থা ব্যক্ত করেছেন।’ 

গণমাধ্যমকর্মীরা এ বিষয়ে দুদকের চেয়ারম্যানের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দুদক এজাতীয় প্রতিবেদন সব সময়ই গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে থাকে। আমি মনে করি, জনগণের প্রতি দুদকের দায়িত্ব আরো বাড়ল। দুদকের প্রতি জনগণের এই আস্থাকে টেকসই করতে হবে। দুদককে নিরবচ্ছিন্নভাবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

দুদকের চেয়ারম্যান বলেন, ‘জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে হলে দুর্নীতি শনাক্তকরণ, অনুসন্ধান, তদন্ত ও প্রসিকিউশন নিখুঁতভাবে করার কোনো বিকল্প নেই। কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতিপরায়ণদের কাছে এই বার্তা পৌঁছাতে হবে যে দুর্নীতি করলে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে। কঠোর শাস্তি পেতে হবে। দেশে এমনকি বিদেশে পালিয়েও শান্তিতে থাকা যাবে না। দুদক পিছু ছাড়বে না। এক্ষেত্রে কারো ব্যক্তিগত পরিচয়, সামাজিক, পেশাগত, ধর্মীয় বা অন্য কোনো পরিচয়ে কাজ হবে না। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি, বিগত প্রায় পাঁচ বছরে আমরা দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের চেষ্টা করেছি। ব্যক্তি আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় ছিল না। আমাদের কর্মপ্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ বিষয় ছিল অপরাধের ধরন, ব্যাপকতা এবং বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান। দ্রুততর সময়ে অপরাধকে আমলে নেওয়ার জন্য অব্যাহতভাবে চেষ্টা করেছি। জনহয়রানি যাতে না ঘটে, সেক্ষেত্রে অপরাধী শানক্তকরণেও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘সরকারি পরিষেবা প্রাপ্তিতে ঘুষ-দুর্নীতির প্রকোপ রয়েছে এ কথা আমরা কখনো অস্বীকার করি না। তবে ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধে আমরা বহুমাত্রিক ব্যবস্থা নিয়েছি। বিগত পাঁচ বছরে ফাঁদ মামলার মাধ্যমে অসংখ্য ঘুষখোরকে ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের কারো কারো বিচারিক আদালতে সাজাও হচ্ছে। গণশুনানির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের কণ্ঠ উচ্চকিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। গণশুনানির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের অসংখ্য সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটা সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, সরকারি সেবা প্রদান সরকারি কর্মচারীদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কতিপয় অসত্ কর্মকর্তা-কর্মচারী এ দায়িত্ব পালনের নামে ঘুষের মতো ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে জড়িত হচ্ছেন। এদের পরিণতি সুখকর হবে না।