স্টেডিয়ামের নামকরণ সম্পর্কে

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:২৮

নেত্রকোনা সরকারি কলেজের পাশেই গড়ে উঠেছে ‘আধুনিক স্টেডিয়াম—নেত্রকোনা’। নামটি দেখে বিস্মিত হই। যেখানে সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদের নামে স্থাপনার নামকরণের জোর তাগিদ রয়েছে, সেখানে হাজার শহিদের রক্তরঞ্জিত নেত্রকোনার স্টেডিয়ামটির এ নামকরণ কেন!

নেত্রকোনা জেলার শহিদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক আরজ আলী। তাঁর জন্ম দুর্গাপুর উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামে। ১৯৬৪ সালে তিনি নিজ এলাকায় ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা ও দাঙ্গা প্রতিরোধ কমিটি’ গঠন করে দাঙ্গা প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৫ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের বিপক্ষে এবং ফাতেমা জিন্নাহর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছয় দফা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৬-৬৭ শিক্ষাবর্ষে ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে ডাকসু ইকবাল হল সংসদের তিনি ছিলেন সমাজসেবা ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক। ১৯৬৯-র গণঅভ্যুত্থানে সুসং দুর্গাপুরে গণআন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এবং আইয়ুবপন্থি বেশ ক’জন বিডি মেম্বার এবং একজন চেয়ারম্যানকে পদত্যাগে বাধ্য করেন। ১৯৬৯ সালে নেত্রকোনা কলেজে যোগদানের পর তাঁর এ স্বাধিকার আন্দোলনের কর্মপরিধি আরো বিস্তৃত হয়। ১৯৭১-এর ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকেই কলেজ এবং নিজ এলাকার তরুণ-যুবাদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেন। শহিদ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ভারত সীমান্তবর্তী দুর্গাপুরের তাঁর নিজ বাড়িটি মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রানজিট ক্যাম্প ও আশ্রয়কেন্দ্র ছিল। মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাদান ও সাংগঠনিক কাজের অভিযোগে ১২ আগস্ট নেত্রকোনা কলেজের প্রফেসরস মেস থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাঁকে বন্দি করে। বেয়নেটের আঘাতে জর্জরিত করে ১৬ আগস্ট রাতে বিরিশিরির সোমেশ্বরী নদীর পাড়ে গুলি করে হত্যা করা হয় তাঁকে। বাংলাদেশ ডাকবিভাগ তাঁর ছবি সম্বলিত স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করেছে। এ অবস্থায়, ‘আধুনিক স্টেডিয়াম—নেত্রকোনা’কে ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক আরজ আলী স্টেডিয়াম’ নামকরণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মো. রফিকুল ইসলাম

সহকারী অধ্যাপক, সুসং সরকারি মহাবিদ্যালয়, দুর্গাপুর, নেত্রকোনা