বেকারদের ভবিষ্যত্ কী?

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৩০

আজ থেকে ৫০ বছর আগের পৃথিবী এত কঠিন ছিল না। এখন সময় বদলে গেছে, সবকিছু আর আগের মতো সহজ নেই। তখনকার যুগে সারা গ্রাম ঘুরে একজন ম্যাট্রিক পাশ ছেলে খুঁজে পাওয়া যেত না। এখন তো ঘরে ঘরে গ্রাজুয়েট। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে দেশে সাক্ষরতার হার ছিল ১৬.৮ শতাংশ, যা এখন ৬১ শতাংশে উপনীত হয়েছে। শিক্ষার হার বাড়লেও বাড়েনি উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। ফলে দেখা দিয়েছে বেকারত্বের করুণ পরিস্থিতি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর মতে, কোনো দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যদি ধারাবাহিকভাবে ছয় মাস ২ দশমিক ৫ শতাংশ বা এর চেয়ে বেশি সংকুচিত হয়, তখন তাকে অর্থনৈতিক মন্দা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে বেকারত্ব বলতে অর্থনীতির ঐ অবস্থাকে বোঝানো হয় যখন কোনো দেশের বহু সংখ্যক সুস্থ, কর্মক্ষম মানুষ কাজের সন্ধান করেও প্রচলিত মজুরিতে কাজ পায় না। ২০১৯ সালে বিআইডিএসের গবেষণায় পাওয়া তথ্যমতে, শিক্ষিত যুবদের মধ্যে সম্পূর্ণ বেকার ৩৩ দশমিক ৩২ শতাংশ। বাকিদের মধ্যে ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ সার্বক্ষণিক চাকরিতে এবং ১৮ দশমিক ১ শতাংশ খণ্ডকালীন কাজে নিয়োজিত। বিআইডিএসের জরিপ বলছে, শিক্ষা শেষে এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত বেকার ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ, দুই বছরের চেয়ে বেশি সময় ধরে বেকার ১৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত বেকার ১৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের বেকার যুবদের মধ্যে প্রায় ৪৬ শতাংশই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্নকারী। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে লকডাউনের সময় বেকারত্বের হার ১০গুণ বেড়ে যায়। বর্তমানে দেশে গরিব মানুষের সংখ্যা পাঁচ কোটিরও বেশি। এদেরকে টেনে তুলতে হলে প্রয়োজন উপযুক্ত কর্মসংস্থান। বেকারত্বের কারণে সমাজে চুরি, ছিনতাই, সন্ত্রাস বাড়ে। প্রয়োজনের তাগিদে বাধ্য হয়েই অনেকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। কাজেই এই দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে। জাতিকে রক্ষা করতে হবে বিপর্যয়ের হাত থেকে।

জোবায়ের জুবেল

৪২৮ ডি ব­ক, খোজার খলা, সিলেট