শতকোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করতে গিয়ে মামলার আসামি হয়েছেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. আতাউল গনি, মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মীর্জা মো. জুবায়ের হোসেন। মো. ফিরোজ হায়দার খান নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্টে মামলাটি করেন। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসংলগ্ন গোড়াই শিল্পাঞ্চলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই মমিন নগর এলাকার একটি খাস পুকুর নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।
মীর্জা মো. জুবায়ের হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিপুল অঙ্কের টাকার সরকারি স্বার্থ রক্ষা করেছি। ফিরোজ হায়দার খান অন্যায় ও বেআইনিভাবে আমাদের নামে মিথ্যা মামলা করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে এ মামলা মোকাবিলা করা হবে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্র জানায়, গোড়াই শিল্পাঞ্চলের গোড়াই মমিন নগর মৌজায় খতিয়ান নম্বর (ইজা-১)-৩০৯, দাগ নম্বর-২৮৬১ কাতে ৮৪ শতাংশ (শ্রেণি পুকুর) সরকারি সম্পত্তি। খাস পুকুরটির বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় শতকোটি টাকা। গোড়াই নাজিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত হাবিবুর রহমান খানের ছেলে মো. ফিরোজ হায়দার খান পুকুরটি ক্রয়সূত্রে মালিক দাবি করে ভোগদখল করে আসছেন। এই সম্পত্তি নিয়ে সরকার ও ফিরোজ হায়দার খানের সঙ্গে হাইকোর্টে মামলা হয়। হাইকোর্ট এ সম্পত্তি নিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ২০১০ সালে। কিন্তু সরকারি নিষেধ উপেক্ষা করে করোনার মধ্যে ফিরোজ হায়দার খান পুকুর ভরাট করা শুরু করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুবায়ের হোসেন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক গত ১৭ মে পুকুরে মাটি ভরাট কাজ বন্ধ করে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেন।
এ ব্যাপারে মো. ফিরোজ হায়দার খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঐ ৮৪ শতাংশ সম্পত্তি আমি সাবেক ব্রিগেডিয়ার মো. মোশারফ হোসেন সানুর বোন মিসেস জেবুন নেছা বেগমের কাছ থেকে সাবকবলা দলিল নম্বর-২৮১১/০৭ এবং ২৪১২/০৭ মূলে ক্রয় করে ভোগদখল করে আসছি। আমার নামে দলিল, খাজনা, খারিজ ও ডিসিআর রয়েছে। পুকুরটি সংস্কার করতে গেলে প্রশাসন হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে অন্যায়ভাবে মাটি ভরাট বন্ধ করে দিয়েছেন। ন্যায়বিচার না পাওয়ায় হাইকোর্টের আশ্রয় নিয়েছি। কোর্ট মামলাটি আমলে নিয়ে তাদের (আসামিদের) বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন। নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তাদের আদালতে হাজির হতে বলেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক বলেন, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কেউ সরকারি খাস পুকুরে প্রবেশ করতে ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারবে না। ফিরোজ হায়দার খান অন্যায়ভাবে পুকুরটি ভরাট করে দখলের চেষ্টা করেছেন। খবর পেয়ে পুকুর ভরাটের কাজ বন্ধ করে সম্পত্তিটি সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
