ডারউইনের গ্যালাপাগোস দ্বীপ

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯:৩৭

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জ বিশ্বের অন্যতম সুন্দর দ্বীপ এবং পর্যটন কেন্দ্র। গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জটি দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডর উপকূল থেকে প্রায় ১০০০ কিলোমিটার পশ্চিমে নিরক্ষরেখায় অবস্থিত, রাজনৈতিকভাবে এটি ইকুয়েডরের অন্তর্ভুক্ত। ভূকম্পন এবং অগ্ন্যুত্পাতের ফলে সৃষ্ট গ্যালাপাগোস প্রায় ১২০টি দ্বীপপুঞ্জের সমন্বয়ে গঠিত। এই দ্বীপপুঞ্জে বৈচিত্র্যময় প্রজাতির বিভিন্ন প্রাণী রয়েছে, যা পৃথিবীর আর কোথাও দেখতে পাওয়া যায় না। বিরল প্রজাতির গুইসাপ ইগুয়ানার দুটি শ্রেণি বসবাস করে এখানে। গ্যালাপাগোস কচ্ছপ এই দ্বীপগুলোর অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাণবৈচিত্র্য।

চার্লস ডারউইন তাঁর বিখ্যাত বিবর্তনবাদের তত্ত্ব তৈরিতে এখানকার প্রাণীদের নির্বাচন ও পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তিনি লক্ষ করেছিলেন, এখানকার কচ্ছপ এবং মকিংবার্ডগুলো একেক দ্বীপে একেক রকম। দ্বীপগুলোর বৈচিত্র্যময় বিরল প্রজাতিগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই ডারউইন বিবর্তনের পক্ষে প্রমাণ পেতে শুরু করেন, যা তাঁর প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। গ্যালাপাগোস দ্বীপের অভিজ্ঞতা, নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং পরবর্তী সময়ে ব্যাপক গবেষণা এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চার্লস ডারউইন ১৮৫৯ সালে প্রকাশ করেন তাঁর বিবর্তনবাদ বিষয়ক বিখ্যাত গ্রন্থ ‘অন দি অরিজিন অব স্পিসিস’।

অনন্যসাধারণ জীববৈচিত্র্য এবং ভূপ্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে ইউনেস্কো গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

নাজমুল আলম