হাওরে বর্ষায় তলিয়ে যাওয়া ফসলি জমি থেকে সরেনি পানি

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ২০:২০

বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

খালিয়াজুরী (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা

খালিয়াজুরীর হাওরে বর্ষায় তলিয়ে যাওয়া আবাদযোগ্য ফসলি জমি থেকে পানি সরে যাওয়ার ভরা মৌসুমেও পুরোপুরি সরেনি। আর এবার দেরিতে পানি সরছে বলে বোরো আবাদের মাধ্যমে ধান উত্পাদন ও সংগ্রহে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। কৃষকরা জানান, অন্যান্য বছর খালিয়াজুরীতে বর্ষায় বেড়ে যাওয়া হাওরের পানি নভেম্বরের মধ্যভাগে পুরোপুরি সরে যায়। তখন বীজতলা তৈরি করে বোরো বীজ বপন করা হয়। ডিসেম্বরের শেষ ভাগে জমিতে রোপণ শুরু হয় ধানের চারা। কিন্তু এ বছর হাওরের পানি এখনো না সরায় বীজ বপনে দেরি হচ্ছে। ফলে চারা রোপণ ও ধান উত্পাদন পিছিয়ে যাবে। এতে ধান চারায় কোল্ড ইনজুরি ও ফসল কাটার মৌসুমে ঢল এবং জোয়ারের পানিতে সৃষ্ট আগাম বন্যায় ফসল তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, হাওরে নির্মিত বিভিন্ন বাঁধে পর্যাপ্ত স্লুইস গেট না দেওয়া তথা বাঁধ নির্মাণকে যুগোপযোগী না করায় পানি প্রবাহে বিঘ্ন ঘটছে। হাওরে ফসল রক্ষায় কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনে নির্মাণ করা বাঁধগুলোতে পর্যাপ্তসংখ্যক স্লুইস গেট থাকলে পানি সরতে এখন এতটা সমস্যা হতো না। তিনি আরো জানান, খালিয়াজুরীতে প্রায় ২০ হাজার  হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়। এক ফসলি এ জমির ফসল বন্যা কিংবা অন্য কোনো কারণে একবার মার খেলে এখানকার কৃষক সহজে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন না। খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম বলেন, বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ হাওরের স্লুইস গেটগুলো খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেনি। নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত বলেন, হাওরের প্রায় সবগুলো স্লুইস গেট নির্দিষ্ট সময়ই পাউবোর তত্ত্বাবধানে খুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, গত দুই বছরের তুলনায় এখানে এবার পানি সরার গতি খুবই কম। তাই হাওরে ফসল রক্ষাবাঁধ নির্মাণের জরিপ ও সংস্কার কাজও পিছিয়ে যাচ্ছে নির্দিষ্ট সময় থেকে।