জামালপুরের শিশু ভ্যানচালক শম্পার পরিবারের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৪০

সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের নাকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ভ্যানচালক তাহাজ্জত শম্পার পরিবারের দায়িত্ব নিলেন প্র্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শম্পার বাবা শরিফুল ইসলামের চিকিত্সার খরচ বহন, শম্পার জন্য মানসম্মত বাসস্থানসহ তার পড়ালেখা এবং পরিবারে ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর মানবিকতায় শম্পা ও তার পরিবারসহ নাকাটিবাসী খুব খুশি। তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দীর্ঘায়ু কামনা করে মোনাজাত করেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক সকাল সাড়ে ১০টায় সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের নাকাটি গ্রামে জেলা প্রশাসক এনামুল হক এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন সম্পার বাড়িতে উপস্থিত হন। পরে শম্পার অসুস্থ বাবা শফিকুল ইসলাম ভাসানীর উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করেন। এ সময় শম্পার পরিবারের সদস্যদের বসবাসের জন্য ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় নির্মিতব্য বাসগৃহের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন।

জানা যায়, পাঁচ বছর আগে জামালপুর শহর থেকে বাড়ি ফেরার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পা ভেঙে যায় শম্পার বাবা শফিকুলের। চিকিত্সার পরেও ভালো হয়নি শফিকুল ইসলাম ভাসানীর ডান পা। এর পর থেকেই সবসময় বিছানায় থাকতে হয় শরিফুল ইসলামকে। তাই শম্পার মা নেবুজা বেগম সবজি বিক্রি করে সংসারের হাল ধরেন। কিন্তু সেই উপার্জনেও যখন সংসার চলে না, বাবার ওষুধ কেনার টাকা থাকে না, তাই বাধ্য হয়ে দেড় বছর আগে ভ্যান চালানো শুরু করে শিশু শম্পা। 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক জানান, কয়েক দিন আগে শম্পার পরিবারের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তাই তিনি বিষয়টি তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদানের নির্দেশ দেন।