খুলনায় স্কুলছাত্রী ও নালিতাবাড়ীতে গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৩২

খুলনায় চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক মাদ্রাসা সুপারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে খালাতো ভাইকে দিয়ে নিজের স্ত্রীকে ধর্ষণ করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অন্যদিকে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে এক কিশোরীকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

খুলনা অফিস ও পাইকগাছা সংবাদদাতা জানান, খুলনার এক মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে পুলিশ মাদ্রাসার সুপার হাবিবুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের ওসিসিতে পাঠিয়েছে।

পুলিশ জানায়, কয়রা উপজেলার খিরোল গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিম সরদারের ছেলে মো. হাবিবুর রহমান (৫৫) প্রায় দেড় বছর ধরে পাইকগাছা উপজেলার লস্কর-পাইকগাছা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার হিসেবে চাকরি করছেন। তিনি সোমবার সকাল ৬টার দিকে মাদ্রাসার পার্শ্ববর্তী ঐ ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে তাকে মাদ্রাসায় অ্যাসাইনমেন্ট আনার জন্য বলে আসেন। মেয়েটি সকাল ৮টার দিকে মাদ্রাসায় গেলে নানা প্রলোভন দেখিয়ে তাকে নিজ ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সুপার। এরপর মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে এলে তার নানি এলাকাবাসীর সহায়তায় থানায় গিয়ে ঘটনাটি জানান। গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে পুলিশ মাদ্রাসার সুপার হাবিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে। গতকাল বুধবার ভিকটিমের নানি বাদী হয়ে সুপারের বিরুদ্ধে পাইকগাছা থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। তবে মাদ্রাসা সুপার হাবিবুর রহমানের দাবি, কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

খালাতো ভাইকে দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) সংবাদদাতা জানান, শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে মাহিদুল নামে এক ব্যক্তি তার খালাতো ভাইকে দিয়ে নিজের স্ত্রীকে রাতভর ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করিয়েছে এবং সে নিজেও এতে অংশ নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মাহিদুলের বাবা মাহবুবর রহমান ও তার খালাতো ভাই ধর্ষক আব্দুল মালেকের বাবা ইব্রাহীম মিয়াকে বুধবার দুপুরে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার বাঘবেড় আখড়াপাড়ায় এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে।

ধর্ষণের শিকার ঐ গৃহবধূ (২৩) ও পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার মাহিদুল তার স্ত্রীকে ফোনে বাঘবেড়ে ডেকে আনে এবং ভগ্নিপতি রহুল আমীন বাবুর বাড়িতে রাখে। রাতে স্ত্রীকে মাহিদুল তার আপন খালাতো ভাই আব্দুল মালেকের হাতে তুলে দেয়। পরে রাতভর স্বামী মাহিদুল ও মালেক মিলে ঐ তরুণীকে ধর্ষণ করে। আপত্তি জানালে তরুণীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ভোরে বিষয়টি জানাজানি হলে জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নির্যাতিত তরুণীকে উদ্ধার করে এবং ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে মাহিদুলের বাবা মাহবুবর রহমান ও মালেকের বাবা ইব্রাহিমকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে পলাতক রয়েছে অভিযুক্ত মাহিদুল ও মালেক। জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার ঐ তরুণী মাহিদুলের দ্বিতীয় স্ত্রী।

নালিতাবাড়ী থানার ওসি বছির আহমেদ বাদল বৃহস্পতিবার ঐ তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য শেরপুর সদরে হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সুবর্ণচরে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, সুবর্ণচরে এক কিশোরীকে (১৫) ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি মো. সোহেলকে  (২৫) বুধবার সকালে গ্রেফতার করেছে চরজব্বর থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত সোহেল উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নুরনবী মাস্টারের ছেলে। দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ইমরানুল সাজ্জাদ। তিনি জানান, গত ৭ অক্টোবর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে এ অভিযোগে ঐ কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে চরজব্বর থানায় মো. সোহেল ও তার দুই সহযোগী নিরব এবং মাসুদসহ তিন জনকে আসামি করে একটি  ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। অপর দুই আসমিকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।