বিএফআরআইয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৩২

বাংলাদেশ মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদে নিয়োগে এক প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষা না দিয়ে সরাসরি মৌখিক পরীক্ষায় ডাক পাওয়ার ঘটনায় রীতিমতো তোলপাড় চলছে। গত শনিবার বিএফআরআইয়ে ৪২টি বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (অস্থায়ী রাজস্ব) পদের জন্য লিখিত পরীক্ষায় বসেন প্রার্থীরা। রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজে দুপুর ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ৬০ নম্বরের এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট ২ হাজার ৮২০ জন প্রার্থী আবেদন করেন। লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন ১ হাজার ২১৪ জন। তবে এক জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নিলেও তাকে উত্তীর্ণ দেখিয়ে পরের দিন মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। লিখিত পরীক্ষা না দিয়েই কীভাবে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাক পড়ল—এ প্রশ্ন সংশ্লিষ্টদের?

তবে বিএফআরআই জানিয়েছে, পুরো নিয়োগ পরীক্ষাকে বিতর্কিত করতেই একটি চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে এটা করেছে। কারণ ২১৯১ রোল নম্বরের প্রার্থীর খাতায় তার রোল নম্বরে ‘ওভাররাইটিং’ পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যখন পরীক্ষক প্রবেশপত্রের সঙ্গে পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর মিলিয়ে স্বাক্ষর করেছেন তখন রোল নম্বর ২১৯১ ঠিকই ছিল। কিন্তু পরে এটা ওভাররাইটিং করে ২১৯০ করা হয়েছে। তা না হলে ২১৯০ নম্বর আসবে কেন? ২১৯০ রোল নম্বরের পরীক্ষার্থী তো পরীক্ষাই দেয়নি।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারি চাকরি একজন মানুষের কাছে সোনার হরিণের মতো। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এ ধরনের কাজ করলেও বিএফআরআই তা যাচাই-বাছাই করল না কেন? এ প্রসঙ্গে ২১৯১ রোল নম্বরের পরীক্ষার্থী মিরাজুল ইসলাম গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমি আমার রোল নম্বর ওভাররাইটিং করব কেন? আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, আমার রোল নম্বর আমি ওভাররাইটিং করিনি।’ এক প্রশ্নের জবাবে মিরাজুল বলেন, ‘আমি যখন দেখলাম ২১৯০ রোল নম্বরটি মৌখিক পরীক্ষার জন্য দেওয়া তালিকায় আছে। তখন আমি ভেবেছি, এটা ভুল করে হয়েছে। আমার রোল নন্বরের জায়গায় এটা এসেছে। কারণ ২১৯০ রোল নম্বরের পরীক্ষার্থী তো পরীক্ষা দেয়নি। কারণ আমি তাকে চিনি। আমরা একই সঙ্গে পড়াশুনা করি। তখন আমি বিএফআরআইর সঙ্গে যোগাযোগ করি। কিন্তু তারা আমাকে কোনো সহযোগিতা করেনি।

জানা গেছে, শনিবার লিখিত পরীক্ষার পর রাত সাড়ে ৩টার দিকে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১২৭ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয় এবং রবিবার তাদের মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। কিন্তু ২১৯০ রোল নম্বরের প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নিলেও তাকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। তবে ঐ পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে আসেননি।

এ প্রসঙ্গে বিএফআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, পুরো নিয়োগ পরীক্ষা বানচাল করতে এটা ইনটেনশনালি করা হয়েছে। একটি চক্র চাচ্ছে, নিয়োগ পরীক্ষাটাকে বিতর্কিত করতে। তিনি বলেন, পরীক্ষার সময় মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুবোল বোস মনির নেতৃত্বে ১০ জনের একটি টিম উপস্থিত ছিলেন। তারা পুরো পরীক্ষা কার্যক্রম তদারকি করেছেন। অনিয়ম হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এ প্রসঙ্গে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ ইত্তেফাককে বলেন, এ ব্যাপারে নিয়োগ কমিটিকে একটি লিখিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ২১৯১ রোল নম্বরের প্রার্থীর খাতায় তার রোল নম্বরে ‘ওভাররাইটিং’ পাওয়া গেছে। আমরা তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।