জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে চসিকের ভোট!

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৩৩

চলতি ডিসেম্বরের শেষে অথবা আগামী জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে পারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ভোট। আগামী সপ্তাহে কমিশন সভায় বসে ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণা দিতে পারে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন যে কোনো দিন বসে ভোটের তারিখ জানিয়ে দিলে নির্বাচনের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়ে যাবে। গত ২৯ মার্চ ভোট হওয়ার কথা থাকলেও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে ভোটগ্রহণের মাত্র সাত দিন আগে তপশিল ঘোষিত এই নির্বাচন স্থগিত করেছিল ইসি। বর্তমানে প্রশাসক দিয়ে চলছে এই সিটির কার্যক্রম।

এ বিষয়ে ইসির সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর জানিয়েছেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভোটগ্রহণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা করেছে। এখানে তপশিল দেওয়ার                 কোনো প্রয়োজন নেই। কেবল ভোটের তারিখ ঘোষণা করা হবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত হলে ভোটের তারিখ জানানো হবে। এক্ষেত্রে ডিসেম্বরের শেষ দিকে ভোট হতে পারে। তবে কোনো কারণে ডিসেম্বরে সম্ভব না হলে জানুয়ারিতে হবে।

ইসির একজন ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, আগামী সপ্তাহে কমিশন সভা হওয়ার কথা রয়েছে, সেখান থেকে ভোটের তারিখটি নির্ধারণ করা হবে। নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় তপশিল যা আছে, সেইভাবে বহাল থাকবে, শুধু ভোটের তারিখটি নতুন করে নির্ধারণ করা হবে।

স্থানীয় মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মেয়াদোত্তীর্ণের আগে নির্বাচন শেষ করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর চায় মন্ত্রণালয়। এর জন্য ভোটগ্রহণ, ফলাফল প্রকাশ, গেজেট জারি থেকে নির্বাচিতদের শপথ অনুষ্ঠান পর্যন্ত প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সুষ্ঠুভাবে শেষ করার জন্য নতুন বছরের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটির ভোট সম্পন্নে ইসির প্রতি তাগিদ রয়েছে।

ইসির তথ্যমতে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে কমিশন। তপশিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হয় ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এরপর ১ মার্চ মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হয়। ৮ মার্চ মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল। ৯ মার্চ প্রতীক বরাদ্দের পর শুরু হয় আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। ২৯ মার্চ ভোটগ্রহণের কথা ছিল। এর মধ্যে শুরু হয় বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। ১২ দিন ধরে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণার পর করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় ২১ মার্চ ভোটগ্রহণ স্থগিতের ঘোষণা দিতে বাধ্য হয় নির্বাচন কমিশন।

এ অবস্থায় গত ৫ আগস্ট মেয়াদ শেষে বিদায় নেন চট্টগ্রাম সিটির মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এবং ৪১ জন সাধারণ ওয়ার্ডের ও ১৪ জন সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। এর আগেই অবশ্য সরকার চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজনকে চট্টগ্রাম সিটির প্রশাসক হিসেবে ১৮০ দিনের জন্য দায়িত্ব দেন। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারিতে চসিক প্রশাসকের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এর মধ্যে শুরু হয়েছে চট্টগ্রাম সিটির ভোটের কার্যক্রম। বর্তমানে পৌরসভা নির্বাচন চলছে। গতকাল বুধবার নতুন করে আরো ৬১টি পৌরসভার তপশিল ঘোষণা করেছে ইসি।

ইসি সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের জন্য এবার নির্বাচন পরিচালনা ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এর বাইরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জন্য আলাদা বাজেট থাকবে। এই বাজেট এখনো ঠিক করেনি কমিশন। নতুন ভোটের তারিখ হলে পরিচালনা খাতের খরচ নির্ধারণ হবে। তবে নির্বাচন স্থগিত হওয়ার আগে পরিচালনা বরাদ্দ থেকে প্রায় কোটি টাকা খরচ হয়েছে। নির্বাচনি খরচ আরো বাড়বে। প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।