দুর্নীতিবাজ রুই-কাতলাদের ছাড় নয় :হাইকোর্ট

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:১৫

সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা পাচারের সঙ্গে জড়িত প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি না হওয়ায় উষ্মা প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, দুর্নীতিবাজ, অর্থ পাচারকারীরা যত বড় রুই-কাতলা হোক না কেন, তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া চলবে না। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের  হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ-সংক্রান্ত মামলার শুনানিকালে এ মন্তব্য করেন। হাইকোর্ট বলে, আমাদের সবার উচিত দেশের সম্পদ রক্ষা করা। সবাইকে এ কাজ করতে হবে। অর্থ পাচারকারীরা যাতে আইনের জালে ধরা পড়ে, সে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। আমাদেরকে সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন এ দেশকে সোনার বাংলা গড়ার। কাজেই জাতির পিতার সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।

এদিকে হাইকোর্টের উষ্মা প্রকাশের পর বিকালে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশে স্বাক্ষর করেছেন ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এ ইমরুল কায়েশ। দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান জানান, গত ২৬ নভেম্বর পি কে হালদারের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে। কিন্তু সেটা আমরা জানতাম না। বুধবার সেই পরোয়ানার আদেশে স্বাক্ষর করেছেন বিচারক।

পি কে হালদারকে ফেরাতে দুদকের পদক্ষেপ কী তা হাইকোর্টকে জানিয়েছে সংস্থাটি। সেখানে  ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে বিচারিক আদালতে আবেদন করা হয়েছে। এরপরই হাইকোর্ট বলে, যারা দুর্নীতিবাজ, যারা অর্থ পাচার করে তাদেরকে ছাড় দিলে চলবে না। আড়াই মাস হয়ে গেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ হয়নি। খুব দুঃখজনক। খুরশীদ আলম খান বলেন, আমি যোগাযোগ করেছি। আদালত বলে, আপনি বলবেন, এটা নিয়ে উচ্চ আদালত কনসার্নড। জবাবে আইনজীবী বলেন, অবশ্যই। আদালতের এই বার্তা জানিয়ে দেওয়া হবে।

শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ বিষয়ে ৯ ডিসেম্বর পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য রেখেছে। এই সময়ের মধ্যে বিচারিক আদালতে পি কে হালদারের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়ে প্রতিবেদন, মামলার এফআইআর ও সম্পত্তি-অর্থ জব্দের আদেশ আদালতে দাখিল করতে দুদককে বলা হয়েছে। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।