দীর্ঘ ৩০ বছর পর সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলায় চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। একই সঙ্গে ১১ জানুয়ারি এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রাখা হয়েছে। গতকাল বুধবার আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে এরা হলেন নিহত সগিরা মোর্শেদের ভাসুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী (৭০) ও তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহিন (৬৪), শাহিনের ভাই আনাস মাহমুদ রেজওয়ান (৫৯) ও মারুফ রেজা (৫৯)। এর মধ্যে প্রথম তিন জনের পরিকল্পনায় কাছ থেকে গুলি করে সগিরা মোর্শেদকে খুন করেন মারুফ রেজা। যা মামলার অভিযোগপত্রে উঠে এসেছে।
এদিকে এ মামলার আসামি সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহীনকে আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত জামিন দিয়েছে আদালত। জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল।
অভিযোগ গঠনের আগে চার আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর কাঠগড়ায় থাকা আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ পড়ে শোনান বিচারক। আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায় বিচার চান। আদালত অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। আসামি পক্ষে সৈয়দ রেজাউর রহমান, এহসানুল হক সমাজী শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত পিপি তাপস কুমার পাল।
প্রসঙ্গত ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই সগিরা মোর্শেদ ভিকারুননিসা নূন স্কুল থেকে মেয়েকে আনতে গিয়ে খুন হন। পরে মিন্টু নামে এক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। হাইকোর্টের আদেশে ২৮ বছর মামলার বিচার কাজ বন্ধ ছিল। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঐ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় হাইকোর্ট। নতুন তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। ঐ তদন্তে উক্ত চার জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই। এতে দেখা যায়, স্বজনদের পরিকল্পনাতেই খুনের শিকার হন ঐ নারী।
