রাজশাহীতে ডোপ টেস্টে জেলা পুলিশের চার কনস্টেবল মাদকাসক্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সিদ্ধান্ত ও নির্দেশে গত অক্টোবরে রাজশাহী জেলা পুলিশে সন্দেহভাজন মাদকাসক্ত পুলিশদের ডোপ টেস্ট শুরু হয়। ইতিমধ্যে সাত সন্দেহভাজনের ডোপ টেস্টের পর চারজনকে শনাক্ত করা হয়। ওই চারজনই বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল। ডোপ টেস্টে মাদক গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সাময়িক বরখাস্তসহ তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।
সূত্র মতে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আরও কিছু সন্দেহভাজন পুলিশের ডোপ টেস্ট করা হবে। এ জন্য রাজশাহী পুলিশ হাসপাতালের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নেতৃত্বে ডোপ টেস্ট কমিটিও করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ কমিটি প্রথমে ফলাফল ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়ে থাকে। সেখান থেকে সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশকে ফলাফল জানানো হচ্ছে।
এদিকে কিট না পাওয়ায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে (আরএমপি) এখনও সন্দেহভাজনদের ডোপ টেস্ট শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ও মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুছ। অন্যদিকে গত রবিবার জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের আরও আটজন সদস্যের ডোপ টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। এদের মধ্যে এসআই, এএসআই ও কনস্টেবল রয়েছেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তাদের পরীক্ষার ফলাফল ঢাকা থেকে রাজশাহীতে পৌঁছাবে।
আরও পড়ুন: বিদ্রোহীদের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে না: ওবায়দুল কাদের
এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জেলার প্রতিটি থানা ও ফাঁড়িসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানের কাছে পাঠানো হয়েছে। মাদকাসক্ত হিসেবে যারা সন্দেহভাজন তাদের নাম গোপনে তার (জেলা পুলিশ সুপার) কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো থানার ওসি বা ইউনিট প্রধান অধীনস্থ কোনো সন্দেহভাজনের বিষয়টি গোপন করলে তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসপি আরও বলেন, গণহারে না, শুধু সন্দেহভাজনদের ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে।
পুলিশের সূত্রগুলো বলছে, জেলা ও মহানগরীতে কর্মরত কিছু সংখ্যক পুলিশ কর্মকর্তা ও কনস্টেবলের বিরুদ্ধে নিয়মিত ফেনসিডিল ও ইয়াবার মতো কঠিন মাদক গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। আবার অনেকের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকারও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব পুলিশ সদস্য কেউ কেউ ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে ঘুরেফিরে রাজশাহীতে কর্মরত রয়েছেন। মূলত তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই মাদক ব্যবসা ও মাদক গ্রহণের অভিযোগ বেশি। ডোপ টেস্টে ধরা পড়ার আশঙ্কায় অনেকেই ইতিমধ্যে তদবির করে বদলি নিয়ে অন্য জেলায় চলে যাচ্ছেন।
ইত্তেফাক/এসি
