মু. সায়েম আহমাদ
ওয়াদা পালন ইসলামের উল্লেখযোগ্য একটি অধ্যায়। ওয়াদা শব্দের অর্থ অঙ্গীকার, চুক্তি, প্রতিশ্রুতি, প্রতিজ্ঞা ইত্যাদি। পরিভাষায় বলতে গেলে, কারো সঙ্গে কোনো অঙ্গীকার করলে তা পালন করার নাম ওয়াদা। সামাজিকভাবে প্রকৃত মানুষ চেনা যায় ওয়াদা পালনের মাধ্যমে। ওয়াদা পালনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয়। একে অপরের প্রতি আন্তরিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। ওয়াদা পালনের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, হে ইমানদারগণ! তোমরা চুক্তিসমূহ পূরণ করো। (সুরা মায়েদা :০১) অন্য আয়াতে বলা হয়, আল্লাহর নামে অঙ্গীকার করার পর সেই অঙ্গীকার পূর্ণ করো এবং পাকাপাকি কসম করার পরে তা ভঙ্গ কোরো না। আর এ ব্যাপারে তো তোমরা আল্লাহকে জামিন করেছ। তোমরা যা করো আল্লাহ তা জানেন। (সূরা আন-নাহল :৯১)। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আবু হাসমা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (স.)-এর নবুওত লাভের আগে একদা আমি তার কাছ থেকে কেনাকাটা করি, যার কিছু মূল্য পরিশোধ করতে বাকি রয়ে গিয়েছিল। আমি তার সঙ্গে ওয়াদা করেছিলাম যে, অবশিষ্ট দাম নিয়ে তার নির্ধারিত স্থানে এসে হাজির হব। আমি এই প্রতিশ্রুতির কথা ভুলে গেলাম। তিন দিন পরে আমার স্মরণ হলো। এসে দেখলাম তিনি সেই নির্দিষ্ট স্থানে আছেন। আমাকে দেখে তিনি বললেন, তুমি আমাকে খুব বিপদে ফেলেছিলে। আমি তিন দিন যাবত্ তোমার অপেক্ষা করছি। (আবু দাউদ)। ওয়াদা ভঙ্গ করা মুনাফিকের আলামত। যেমন হাদিসে ইরশাদ হয়েছে যে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (স.) বলেন, মুনাফিকের আলামত তিনটি :১. কথা বললে মিথ্যা কথা বলে। ২. ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে। ৩. আমানত রাখলে তা খেয়ানত করে। (তিরমিযি)। অবশ্য যদি কোনো বিশেষ কারণে ওয়াদা পালন করতে না পারে, এতে কোনো অপরাধ হবে না। যেমন হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত যায়েদ ইবনে আরকাম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (স.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি ওয়াদা করার সময় যদি তা পূরণের নিয়ত রাখে কিন্তু পরে (কোনো বিশেষ অসুবিধার কারণে) তা পূরণ করতে না পারে, তবে এতে তার অপরাধ হবে না। (তিরমিযি)
লেখক :শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ
