রৌমারীতে ৭২টি কাঁচা-পাকা সড়ক বেহাল

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:২১

দুর্ভোগে ছয় ইউনিয়নের বাসিন্দা

আমির হোসেন, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

রৌমারী উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা বেহাল। বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে কাঁচা-পাকা ৭২টি সড়ক ধসে যাওয়াসহ খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের জনগণ। মঙ্গলবার সরেজমিনে সড়কের এসব চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার ছয় ইউনিয়নে অযোগ্য হয়ে পড়েছে কাঁচা-পাকা মিলে প্রায় ২২৫ কিলোমিটার রাস্তা।

স্থানীয় সিএসডিকে এনজিওর নির্বাহী পরিচালক মো. আবু হানিফ মাস্টার জানান, বন্দবেড় ইউনিয়নের খনজনমার স্লুইসগেট থেকে বাইটকামারী, পূর্ব পাখিউড়া হয়ে দাঁতভাঙ্গা পর্যন্ত বেহাল। তিনতেলী থেকে বাইটকামারী পাকা রাস্তার এক কিলোমিটার বেহাল। বন্দবেড় ইউনিয়নে সাতটি সড়ক চলাচল অযোগ্য। সবুজপাড়া গ্রামের আতিকুর রহমান সুমন জানান, রৌমারী উপজেলা মোড় থেকে থানা মোড় পর্যন্ত এক কিলোমিটার ডিসি, উপজেলা মোড় থেকে কলেজপাড়া এক কিলোমিটার পাকা রাস্তা চলাচল অযোগ্য। রৌমারী থানা মোড় থেকে মহিলা কলেজপাড়া পর্যন্ত এক কিলোমিটার পাকা রাস্তার পাশে গাইড ওয়াল নেই। ভেঙে গেছে তিনটি স্থান। রৌমারী সদর ইউনিয়নের আরো ১৩টি সড়কে যাহবাহন চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। চর গেন্দার আলগা গ্রামের লালচান শিকদার জানান, চর শৌলমারী ইউনিয়ন পাখিউড়া ব্রিজ হয়ে চর শৌলমারী পাকা আট কিলোমিটার রাস্তা ভাঙাচুড়া। এ ইউনিয়নের আরো ১২টি সড়ক বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে ভেঙেচুরে বেহাল হয়ে আছে। খেতারচর গ্রামের মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের শালুর মোড় থেকে বাংলাবাজার বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার রাস্তাসহ ১১টি সড়কের অবস্থা খুব খারাপ।

কলাবাড়ি গ্রামের মো. এমদাদুল হক জানান, জাদুরচর ইউনিয়নে ১৬টি সড়কে চলাচল সমস্যা। শৌলমারী গ্রামের মো. মশিউর রহমান বাবু জানান, শৌলমারী ইউনিয়নের শৌলমারী গ্রাম থেকে চতলাকান্দা পর্যন্ত সাত কিলোমিটার কাঁচা, শৌলমারী থেকে বলমেরচর ব্রিজ পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার কাঁচা, সুতিরপার ভুন্দর মোড় থেকে পূর্ব দিকে মোল্লার চর বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত তিন কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা বেহাল। এছাড়াও আরো ১০টি সড়ক ভাঙাচোরা। বন্দবেড় ইউপি চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন, জাদুরচর ইউপি চেয়ারম্যান মো. সরবেশ আলী, চর শৌলমারী ইউপি চেয়ারম্যান কে এম ফজলুল হক, রৌমারী সদর চেয়ারম্যান শহিদুর ইসলাম শালু, দাঁতভাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান মো. সামসুল হক জানান, সম্প্রতি বন্যায় রাস্তা, ব্রিজ কালভার্ট, সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। জনসাধারণ ও যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

রৌমারী উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাটের তথ্য জেলায় প্রেরণ করা হয়েছে। টিআর, কাবিখা, প্রকল্প বরাদ্দ এলে রাস্তাগুলোর সংস্কার কাজ করা হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল বলেন, উপজেলার ছয় ইউনিয়নের অনেক কাঁচা-পাকা রাস্তা সংস্কারের অভাবে নষ্ট হয়েছে। উল্লেখিত রাস্তাগুলোর মধ্যে অনেক রাস্তা পাকাকরণ ও সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল ইমরান বলেন, বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন কাঁচা-পাকা রাস্তাগুলোর বিভিন্ন জাগায় ভেঙে গেছে। এছাড়াও অনেক কাঁচা-পাকা রাস্তায় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য  উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।