পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু
হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা
হাজীগঞ্জে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। গত দুই মাসে ২০ শিশুসহ মোট ২১ জন পানিতে ডুবে মারা গেছে। চাঁদপুরের মধ্যে হাজীগঞ্জ উপজেলায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর হার বেশি। জানা যায়, নভেম্বর মাসে ৯ শিশু এবং অক্টোবর মাসে একজন বৃদ্ধাসহ ১২ শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে।
গত ২ নভেম্বর বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নে বড়কুল গ্রামে কুলসুমা আক্তার (২), ৪ নভেম্বর কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের রামপুর-নওহাটা গ্রামে সাকিবুল হাসান (৭), ৬ নভেম্বর পুকুরের পানিতে ডুবে পৌরসভাধীন কংগাইশ গ্রামে আব্দুল্লাহ (২) ও একই দিনে সদর ইউনিয়নের বাড্ডা গ্রামে সায়মা আক্তার (২) মারা যায়। ৮ নভেম্বর হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নে বলিয়া গ্রামে ফারজানা (২), ১৬ নভেম্বর বদরপুর গ্রামে ইনতিয়া ইসলাম ইভা (৫), ১৯ নভেম্বর হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন রান্ধুনীমুড়া গ্রামে মারওয়া আক্তার জারা (৩), ২৭ নভেম্বর পুকুরে ডুবে বাকিলা ইউনিয়নের খলাপাড়ায় ফয়সাল হোসেন (৪) ও একই দিনে সদর ইউনিয়নে সুবিদপুর গ্রামে শাখাওয়াত হোসেন (২) পানিতে ডুবে মারা যায়। এছাড়া গত ২ অক্টোবর পুকুরে ডুবে দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়নের মালাপাড়া গ্রামে আনোয়ার হোসেন (২), ৪ অক্টোবর পৌরসভাধীন মকিমাবাদ গ্রামে সায়মুন হোসেন (৪), ৬ অক্টোবর পনিশাইর গ্রামে রাহুল (৮) ও একই দিনে বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে আব্দুর রহমান (২) ও ১০ অক্টোবর রাজারগাঁও গ্রামে আশরাফি (৬), ১৪ অক্টোবর পুকুরে ডুবে কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নের নওহাটা গ্রামে ইভা আক্তার (৩) ও একই দিন রামপুর গ্রামে আব্দুল্লাহ্ আল মাহি (৪), ২০ অক্টোবর রাজারগাঁও ইউনিয়নে পশ্চিম রাজারগাঁও গ্রামে একই বাড়ির ও একই সময়ে ফাহিম (১১) ও নাজমুল হাসান (৯), ২১ অক্টোবর গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের পালিশারা গ্রামে আমেনা বেগম (৯০), ২৬ অক্টোবর পনিশাইর গ্রামের আয়ান (৩) ও ২৭ অক্টোবর বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের ফারিহা সুলতানা (১৫ মাস) পানিতে ডুবে মারা যায়।
হাজীগঞ্জে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনক উল্লেখ করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এস এম সোয়েব আহমেদ চিশতী জানান, পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধে পাঁচ বছরের বেশি বয়সি শিশুদের সাঁতার শেখানো এবং পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের চোখে চোখে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে পারিবারিকভাবে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন রনি জানান, অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে শিশুরা খেলতে গিয়ে পানিতে পড়ে মারা যায়। এছাড়া এ রকম মৃত্যুর সব খবর প্রশাসনের কাছে আসেও না। পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর বিষয়ে কোনো অভিযোগ না থাকলে পরিবারের কাছে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তর করা হয়।
