পিছিয়ে থাকা চরাঞ্চলকে উন্নয়নের মূলধারায় আনতে হবে

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৩১

জাতীয় কর্মশালায় বক্তারা

 

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় চরের মানুষের সমান অংশ নিশ্চিত করার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে সব অংশীজনকে। পিছিয়ে থাকা চরাঞ্চলকে উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) চরের জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ দিতে হবে। ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্স এবং সমুন্নয় আয়োজিত ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউ : চরাঞ্চলের প্রস্তুতি’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কো-অপারেশনের (এসডিসি) অর্থায়নে পরিচালিত ‘আলোকিত চর’ প্রকল্পের আওতায় এই অনলাইন কর্মশালা আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এক্সপ্রেস লেদার প্রডাক্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজি জামিল ইসলাম এবং মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং সমুন্নয়ের সভাপতি ড. আতিউর রহমান। চরাঞ্চলে মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছে এমন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম কর্মীরা কর্মশালায় অংশ নেন।

ড. আতিউর রহমান তার নিবন্ধে চরের জীবনমানের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যে পার্থক্য তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে, মহামারির আগেই পিছিয়ে থাকা চরাঞ্চল অর্থনৈতিক স্থবিরতার ফলে আরো বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে। তাই জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিশেষ করে বাজেটের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে চরাঞ্চলের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রকল্প প্রণয়ন করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ থেকে চরাঞ্চলের সুরক্ষা দিতে চরে স্বাস্থ্যসেবা, কৃষিতে ভর্তুকি, নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ সহায়তাসহ ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্সের আট দফা প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন করা দরকার বলে অভিমত ব্যক্ত করেন চরে কাজ করছে এমন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা। কাজি জামিল ইসলাম জানান যে, তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চরাঞ্চলে নারীর ক্ষমতায়নে বিনিয়োগ করবেন যাতে করে ব্যক্তি খাতের অন্য উদ্যোক্তারাও চরের উন্নয়নে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। আগামীতে জাতীয় বাজেটে চরের উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা, চরে মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা, চরের উন্নয়নে ব্যক্তি খাতকে উত্সাহিত করতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দসহ বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন বক্তারা।