মাস্ক ব্যবহারে অসচেতনতার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরও কাজ হচ্ছে না। এর কারণ কী? এ বিষয়ে টেলিফোন ও ইমেইলে প্রাপ্ত পাঠকের
মতামত আজ প্রকাশিত হলো।
সরকারের কঠোর অবস্থানের পরও মাস্ক ব্যবহারসহ অন্যান্য নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে জনসাধারণের অনাগ্রহ ও নিদারুণ অবহেলার অন্যতম কারণ অসচেতনতা এবং করোনার শীতকালীন ঢেউয়ের সম্ভাব্য ভয়াবহতা এবং সংক্রমণের নিয়মিত পরিসংখ্যানের পর্যাপ্ত প্রচারের ঘাটতি। তাছাড়া, করোনা শহুরে সমাজ এবং বিত্তশালীদের রোগ এমন কুসংস্কারে শুরু থেকেই গ্রামের জনসাধারণ আচ্ছন্ন বলে মাস্ক ব্যবহারে উদাসীনতা রয়ে গেছে। অন্যদিকে, হাটবাজার, গণপরিবহন ও পর্যটনকেন্দ্রসমূহে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা খুব একটা পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
আবু ফারুক
বনরূপা পাড়া সদর, বান্দরবান।
অক্সফোর্ড উদ্ভাবিত কোভিড-১৯-এর ৩ কোটি ডোজ টিকা আমাদের দেশের সরকার কিনতে যাচ্ছে, যা মানুষকে বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। এটি অবশ্যই আমাদের জন্য সুখবর। কিন্তু বিষয় হচ্ছে বর্তমানে মাস্ক ব্যতীত সুরক্ষার কোনো পথ নেই। যেহেতু টিকা পেতে এখনো বেশ দেরি। এ অবস্থায় আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
বজলুল করিম
ধানমন্ডি, ঢাকা
কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষার অন্যতম হাতিয়ার হচ্ছে মাস্ক। মাস্ক ব্যবহারে অসচেতনতার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরও দেখা যাচ্ছে অনেকেই মাস্ক ব্যবহারে অনীহা দেখাচ্ছে। তাই আমাদের এ বিষয়ে আরো সচেতন হতে হবে।
মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)
আরাপপুর, ঝিনাইদহ
গত কয়েক মাস ধরে আমাদের দেশে করোনায় কয়েক হাজার মানুষ মারা গেছেন। অথচ এর জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা বলা হলেও অনেকেই তা মানছে না। এমনকি সরকারি নির্দেশনার পরও মাস্ক পরা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, ঘন ঘন হাত ধোয়া ইত্যাদি স্বাস্থ্যবিধি পালন করছে না সাধারণ মানুষ। করোনা মোকাবেলায় দরকার সর্বাত্মক গণসচেতনতা। করোনা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মাস্ক ব্যবহারের বিকল্প নেই।
আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী (হিফজু)
রাজশাহী
এখনো আন্তর্জাতিক বাজারে করোনার ভ্যাকসিন আসেনি। দের্শে করোনার সংক্রমন শুরু হওয়ার পর থেকেই মাস্ক ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। কিন্তু আমরা নির্দেশ অমান্য করছি। এটি কাম্য নয়। সচেতনতার কোন বিকল্প নেই। মাস্ক পরতে হবে, নিজের জীবন বাঁচাতে হবে।
ফারুক আহমেদ
বাঘমারা, রাজশাহী
মাস্ক ব্যবহারের জন্য সরকারি প্রচারণা, জেল জরিমানার নির্দেশ দেওয়ার পরও মানুষ মাস্ক ব্যবহারে আগ্রহী নয় কেন—এ বিষয়ে গবেষণা হওয়া উচিত। পর্যায়ক্রমে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে মানুষকে মাস্ক ব্যবহারে উদ্বুব্ধ করা যেতে পারে। আমাদের দেশে মাস্ক সংস্কৃতি প্রচলনের পাশাপাশি এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হওয়া উচিত।
মাখরাজ খান
সাঠুরিয়া, মানিকগঞ্জ
সরকারের কঠোর অবস্থানের পরও মাস্ক ব্যবহারে মানুষের উদাসীনতা দুঃখজনক। বিশেষত গ্রাম এলাকার মানুষ কখনোই করোনাকে গুরুত্ব দেয় নি। এক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রচারণা কার্যক্রম জোরদার করার বিকল্প নেই।
মোহাম্মদ ফয়সাল
পূর্ব মাদারবাড়ী, চট্টগ্রাম।
করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচার সুরক্ষার জন্য মাস্ক পরা, সাবান দিয়ে ঘন ঘন হাত ধোয়া এবং স্যানিটাইজার ব্যবহার করা আবশ্যক। পাশাপাশি জন সমাবেশ, ধর্মীয় সমাবেশ, গণপরিবহন, পূজা, পার্বণ, সামাজিক ও পারিবারিক মিলন মেলায় সামাজিক দূরত্ব বজার রেখে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের কর্তব্য। কিন্তু অনেকেই এ ব্যাপারে সচেতন নয়। এমনকি পকেটে বা ভ্যানিটি ব্যাগে মাস্ক রেখেও আমরা তা পরতে অনীহা বোধ করি। মনে রাখতে হবে একজন মানুষের অসচেতনতা অন্য দশজন মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই করোনা মহামারি থেকে বাঁচতে মাস্ক পরিধানে আমরা নিজে সচেতন হই এবং অন্যকেও সচেতন করি।
ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী
বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।
করোনা ছাড়াও মাস্কের ব্যবহার ধুলাবালি, রোগজীবাণু থেকে আমাদের সুরক্ষিত রাখতে পারে । মাস্ক ব্যবহারে অবহেলা কাম্য নয়।
সালেহা আফরিন বেবি
শিবগঞ্জ, সিলেট।
মাস্ক ব্যবহারে অসচেতনতার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরও কাজ হচ্ছে না। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ যে কোনো বিষয়েই নিয়ম মেনে চলার ব্যাপারে অসচেতন। সরকার নানারকম স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বললেও তা মানছে না অনেকেই। সচেতনতার ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।
খন্দকার মাসুদ-উজ-জামান
তোপখানা রোড, ঢাকা
দেশে প্রথম করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ৮ মার্চ। এরপর ক্রমে জুন থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সর্বোচ্চসংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়। শীত মৌসুমে আমাদের দেশে এমনিতেই সর্দি, কাশিসহ নিউমোনিয়া লেগে থাকে। এখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তাই আমাদের যথেষ্ট সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা আবশ্যক।
মো. মেজবাহ উদ্দিন সেলিম
ইব্রাহিমপুর,
ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে। সরকারি নির্দেশনার অংশ হিসেবেই প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এরপরও জনসাধারণের মধ্যে মাস্ক ব্যবহারের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। মাস্ক না পরার বিষয়ে অনেকে নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন। সুতরাং মাস্ক ব্যবহারে অসচেতনতার বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে।
শিশির
পিলখানা, ঢাকা
করোনাকালীন এই সময়ে অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছেন না যা অত্যন্ত দুঃখজনক। ফলে সংক্রমনের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই মাস্ক ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি মাস্ক ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
আইরিন সুলতানা
মাইজপাড়া, চট্টগ্রাম
বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশে কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা। আমাদের দেশের মানুষ মাস্ক ব্যবহারে এখনো পুরোপুরি সচেতন নয়। সরকারিভাবে ঘোষণা দেওয়া সত্ত্বেও তা মানছে না অনেকেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষকে নজরদারি বাড়াতে বলেছে যা আশাব্যাঞ্জক।
সুগন্ধী আক্তার
মতিঝিল, ঢাকা
কোভিড-১৯-এর দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে প্রয়োজন স্বাস্থ্য সচেতনতা। নিয়মিত মাস্ক ব্যবহার, দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা, হাত ধোয়া ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যাবশ্যক। মাস্ক ব্যবহারে অবশ্যই সচেতনতা বাড়াতে হবে।
মো. মামুন হোসেন
বংশাল, ঢাকা
সরকার ইতিমধ্যে ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস’ নীতিমালা গ্রহণ করেছে। সরকারের এ নীতি অবশ্যই প্রশংসনীয়। তাই মাস্ক ব্যবহারে সচেতনতা জরুরি। এই নীতি পালন বা মানা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করতে হবে।
অ্যাডভোকেট এস কে মো. রমিজউদ্দিন
মিরপুর, ঢাকা
মাস্ক বর্তমান সময়ে করোনা প্রতিরোধের একটি বড় মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে প্রতিষেধকের আগমন এবং সহজলভ্যতার পূর্ব পর্যন্ত মাস্ক পরিধানের বিষয়টিতে গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। বর্তমানে সরকার মাস্ক ব্যবহারে অসচেতনার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। করোনা প্রতিরোধে মাস্কের এত ভূমিকা থাকার পরও সরকারের পদক্ষেপকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছে না। যার প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে মানুষের অসচেতনতা । সামান্য মাস্ক করোনা প্রতিরোধ করতে পারবে না—এই মতবাদে বিশ্বাসী হয়ে অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছে না । সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারলেই মানুষ মাস্ক ব্যবহারে আগ্রহী হবে ।
ফারজানা বিনতে মুরাদ ঈরা
ঝিকরগাছা, যশোর
জনগণের সদিচ্ছা ছাড়া শুধু নির্দেশনা জারি করে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা বেশ কঠিন। সর্বত্র মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে জীবন-জীবিকার নানা কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে হবে।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক
পার্বতীপুর, দিনাজপুর।
সচেতন হওয়ার জন্য জোরজবরদস্তি কোনো সমাধান নয়। তারপরও সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতে আমাদের দেশের মানুষ অন্যান্য অনেক দেশের মানুষের চেয়ে অপেক্ষাকৃত ভালো আছে। মানুষ সচেতন হলে আরো ভালো থাকা যেত। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যবাধকতামূলক করার লক্ষ্যে সরকারের কঠোর পধক্ষেপ প্রশংসনীয়।
জিয়াউল হক সরকার
পূবাইল,গাজীপুর।
শীত মৌসুমকে কেন্দ্র করে করোনার প্রকোপ ঠেকাতে সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই। সরকার মাস্ক ব্যবহারে কঠোর নির্েদশনা ও পদক্ষেপ নিয়েছে। এটা সকলের কল্যাণের স্বার্থেই করা হয়েছে। বিষয়টি বুঝেও যদি কেউ না বোঝার ভান করে, জরিমানাকেও ভয় না করে, তবে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে । নিজ উদ্যোগেই সবাইকে সচেতন এবং সতর্ক হতে হবে।
উবাইদুল্লাহ তারানগরী
দুধনই ধোবাউড়া, ময়মনসিংহ
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহারের কোন বিকল্প নেই। যতদিন করোনার ভ্যাকসিন সহজলভ্য না হচ্ছে ততদিন স্বাস্থবিধি মেনে চলতে হবে। সরকার মাস্ক ব্যবহারে অসচেতনতার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার পরও মানুষ সচেতন হচ্ছে না, মাস্ক ব্যবহারে উদাসীনতা দেখাচ্ছে -যা সত্যিই উদ্বেগজনক। করোনার সংক্রমণের ব্যাপারে মানুষের কুসংস্কার কিংবা অসচেতনতা সরকারের পদক্ষেপকে ব্যর্থ করে তুলছে। সরকারের গৃহীত নো মাস্ক নো সার্ভিস কঠোরভাবে প্রয়োগ করে জনসাধারণকে সচেতন করতে হবে।
রাকিবুল হক
আদাবর, ঢাকা
দেশের মানুষের মাঝে শিক্ষার বিস্তার বাড়লেও সচেতনতা বাড়ে নি। ইতিপূর্বে সরকারের নেয়া নানা উদ্যোগ সাধারণ মানুষের অসচেতনতার কারণে সাফল্যের মুখ দেখতে পারে নি। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার মাস্ক ব্যবহারে অসচেতনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে যা প্রশংসনীয়। তবে মানুষের মাঝে এর তেমন কোন প্রভাব পড়ে নি। ফলে সরকারের এই উদ্যোগও আলোর মুখ দেখবে কি না সন্দেহ। করোনা প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোন বিকল্প নেই।
অনিক আনোয়ার
ধানমন্ডি, ঢাকা
