অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে সতর্কতা জরুরি

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৪৫

ঋতুবৈচিত্র্যের বাংলাদেশে অগ্রহায়ণের হাত ধরে শীতের রেশ থাকে ফাগুনের আগুন লাগা পর্যন্ত। শীত মৌসুমে প্রকৃতি-রাজ্যে শুষ্কতা বিরাজ করে, যে কারণে সামান্য স্ফুলিঙ্গও দাবানলে পরিণত হতে বেশি সময় লাগে না। শীতে উষ্ণতার জন্য দলবেঁধে আগুন পোহানোর দৃশ্য কমবেশি সব জায়গাতেই দেখা যায়। আগুন পোহাতে গিয়ে অসাবধানতাবশত অনেকেই অগ্নিদগ্ধ হয়। প্রতিবছরই এই সময়ে পুড়ে ছাই হয়ে যায় কোটি  কোটি টাকার সম্পদ। অধিকাংশ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে জ্বলন্ত চুলা, বৈদ্যুতিক শট সার্কিট এবং ধূমপানের পর ফেলে দেওয়া অবশিষ্টাংশ থেকে। তাই আগুন প্রতিরোধে আমাদের বিশেষ সতর্কতা এবং সচেতনতা জরুরি। রান্নাঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এড়াতে রান্নার পর গ্যাসের চুলা সম্পূর্ণভাবে নিভিয়ে ফেলতে হবে, গ্রাম-গঞ্জের মাটির চুলা কিছু দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। কখনোই ভেজা জামা-কাপড় চুলোর ওপর শুকাতে দেওয়া যাবে না। বৈদ্যুতিক শট সার্কিট এড়াতে সার্কিট ব্রেকার এবং ভালো মানের তার ব্যবহার করা প্রয়োজন। ধূমপান শেষে অবশিষ্টাংশ যেখানে সেখানে না ফেলে ভালোভাবে নিভিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে হবে। ম্যাচ এবং লাইটার শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা জরুরি। দুর্ভাগ্যবশত বাসা কিংবা অফিসে যে কোনো জায়গায় আগুন লাগলে ঘাবড়ে না গিয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র বাঁচাতে জীবনের ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়। কারণ জীবনই সবচেয়ে বেশি মূল্যবান। মনে রাখতে হবে, একমাত্র সাবধানতা ও সচেতনতাই পারে আগুনের লেলিহান শিখা থেকে আমাদের জীবন এবং সম্পদকে রক্ষা করতে।

মাহফুজুজ্জামান রাকিব

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়