খাগড়াছড়িতে এক ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে তার স্ত্রীসহ পাঁচ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। অন্যদিকে খুলনায় এক হত্যা মামলায় তিন জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, খাগড়াছড়িতে পরিকল্পিতভাবে স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রী রাবেয়া আক্তারসহ (৩৫) পাঁচ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে খাগড়াছড়ি জেলা ও দায়রা জজ রেজা মো. আলমগীর হাসান এই রায় ঘোষণা করেন। এক আসামি ছাড়া বাকিরা রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সাজাপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন, রামগড় চৌধুরী পাড়ার মো. মানিক মিয়ার ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (২৪), একই এলাকার মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মো. ফিরোজ (২৮), গুইমারা উপজেলার রেনুছড়া এলাকার শাহ আলমের ছেলে মো. আবুল কালাম (২২) এবং একই এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে মো. আবুল আসাদ ওরফে মিঠু (২০)।
জানা গেছে, পরকীয়ার জেরে রাবেয়া ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লোক ভাড়া করে গুইমারা উপজেলার রবীন্দ্র পাড়ায় স্বামীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয় এবং পুলিশ তদন্ত শেষে একই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। আদালত রাষ্ট্রপক্ষের ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে চার বছরের মাথায় এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আরিফ উদ্দিন।
খুলনায় হত্যা মামলায় তিন জনের মৃত্যুদণ্ড
খুলনা অফিস জানায়, খুলনায় শ্রী অ্যাগ্রো লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী গোবিন্দ সানা (৪০) হত্যা মামলায় তিন জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সাইফুজ্জামান হিরো এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন জনই পলাতক রয়েছে। আসামিরা হলেন, বিবেক মন্ডল, সৌগত রায় ও অরুনাভ রায়। জানা যায়, ২০১৫ সালের নভেম্বরে গোবিন্দ সানাকে হত্যার পর গলায় ও কোমরে ইট বেঁধে তার লাশ ঢাকি নদীতে ফেলে দেয় খুনিরা। এ ঘটনায় দাকোপ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক কাজী মোস্তাক আহমেদ ২০১৬ সালের ১৯ জুন আদালতে তিন জনের নামে চার্জশিট দাখিল করেন। ২০১৮ সালের ৫ জুলাই আদালতে এই মামলার শুনানির মধ্য দিয়ে চার্জ গঠন ও বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আরিফ মাহমুদ লিটন।
