প্রবাসীর স্ত্রীসহ ২৪ লাখ টাকা বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৫৫

বরিশালের মুলাদী উপজেলায় নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারসহ ২৪ লক্ষাধিক টাকাসহ প্রবাসীর স্ত্রীকে বাগিয়ে নেওয়ার ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মুরাদের বিরুদ্ধে প্রবাসীর বাবা আবুল হাসেম কাজী সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে আবুল হাসেম কাজীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুলাদী উপজেলার তেরোচর গ্রামের বাসিন্দা ও প্রবাসী মোতালেব কাজীর ছোট ভাই কাজী রাসেল।

লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, ২০০৩ সালে আমার কুয়েত প্রবাসী ছেলে মোতালেব কাজীর সঙ্গে আসমা খানম লাকীর বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তানও রয়েছে। বিয়ের পরে মুলাদী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মুরাদের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে লাকী। বিষয়টি একাধিকবার আমাদের কাছে ধরা পড়লেও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ক্ষমতা দেখিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে এবং দুটি শিশুসন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে লাকীকে সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কাজী মুরাদের সহযোগিতায় আসমা খানম লাকী বিদেশ থেকে প্রেরিত ২০ লাখ টাকা, ৪ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। কাজী মুরাদ পরকীয়ার ফাঁদে ফেলে শুধু প্রবাসীর ১৭ বছরের সংসারই ভাঙেনি বরং গৌরব ঐতিহ্যের সংগঠন ছাত্রলীগের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে বলে উল্লেখ করেন ভুক্তভোগীরা। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ ঘটনায় কাজী মুরাদ ও আসমা খানম লাকীর বিচার এবং অর্থ-সম্পদ ফেরত পেতে ১৭ নভেম্বর মুলাদী থানায় মামলা দায়েরের চেষ্টা করা হলেও ছাত্রলীগ নেতা হওয়ায় নামমাত্র একটি অভিযোগ দাখিল করা সম্ভব হয়েছে।

এ বিষয়ে কাজী মুরাদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ও জেলার সভাপতি-সম্পাদক বরাবর অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে মুরাদ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে মোতালেব কাজী দেশে ফিরতে পারছেন না বলে ভুক্তভোগী পরিবার জানায়। তারা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জীবনের নিরাপত্তা, প্রবাসী পুত্রের কষ্টার্জিত অর্থ ও আদরের দুই নাতি-নাতনিকে ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।