বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতাকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। দেশ জুড়ে ধর্মবাদী অপশক্তির আস্ফাালনকে রাজনৈতিকভাবে রুখতে সব অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। ভাস্কর্য বিতর্কসহ সাম্প্রতিক উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
মেনন বলেন, সাম্প্রদায়িক ও অগণতান্ত্রিক শক্তি ধর্মকে আবার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। ইসলাম ধর্মকে তারা আবার বিতর্কিত করতে চায়। এখন ভাস্কর্য ও মূর্তি বনাম যে বিতর্ক তারা তুলেছে, তা সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের অবস্থান সম্পূর্ণভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধানবিরোধী। আজকে তারা যে অবস্থান নিয়েছে তা স্পষ্টভাবেই রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও দেশদ্রোহিতার শামিল। বাবুনগরী বলেছেন, তাদের শর্তে দেশ পরিচালনা করতে হবে। তারা স্পষ্টভাবেই সরকারের মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। এখানে ধৈর্য্য বা নিরবতার কৌশল নেওয়ার কোনো অবকাশ নেই। তাদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।
সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্যে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ভাস্কর্য বিরোধিতার বিষয়টিকে ক্ষমতার রাজনীতির অতি পরিচিত দ্বন্দ্ব-বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার অবকাশ নেই। এর সঙ্গে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মূলভিত্তির প্রশ্ন জড়িত। এই ধর্মবাদী গোষ্ঠী বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনকে অজুহাত করে সেই মূলভিত্তিকেই আঘাত করেছে। সংবাদ সম্মেলনে ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, সুশান্ত দাস, কামরুল আহসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
