ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে করোনা মহামারি

যুক্তরাষ্ট্রে এক দিনেই মৃত্যু ৩ হাজার ১৫৭, আক্রান্ত ২ লাখ

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ২৩:০২

ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে বৈশ্বিক করোনা (কোভিড-১৯) মহামারি পরিস্থিতি। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বিশ্বের ধনী দেশগুলো। বুধবার এক দিনেই যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড ৩ হাজার ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এক দিনে আবারও ২ লাখের বেশি মার্কিনির সংক্রমণ ধরা পড়েছে। হাসপাতালগুলোতে অসুস্থদের জায়গা দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ইউরোপের অনেক দেশেও করোনা সংক্রমণ বেড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশে দেশে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এদিকে ফাইজারের টিকা অনুমোদনের পর যে কোনো সময় প্রাথমিক চালান যুক্তরাজ্যে পৌঁছাবে বলে জানানো হয়েছে। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। আক্রান্ত ও মৃত্যু দুটোই বাড়ছে। সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, বুধবার ৩ হাজার ১৫৭ জনের মৃত্যু সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। যা আগের এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। এর আগে গত ১৫ এপ্রিল সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬০৩ জন মার্কিনির মৃত্যু হয়। এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৭৩ হাজারের বেশি মার্কিনির মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ।

গতকাল এক দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালে ১ লাখের বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে। গত মাস থেকেই হাসপাতালে ভর্তি মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর সংখ্যা ৩ লাখ ২৯ হাজারে দাঁড়াতে পারে। প্রকৃতপক্ষে ডিসেম্বর, জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারিতে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। এ সময়টা যুক্তরাষ্ট্রে জনস্বাস্থ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন সময় হিসেবে জায়গা পেতে পারে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় লস অ্যাঞ্জেলেসবাসীদের সব কিছু বাতিল করে ঘরে থাকতে বলেছে কর্তৃপক্ষ। আক্রান্তের সংখ্যা একই হারে বাড়তে থাকলে বড়দিনের আগে লস অ্যাঞ্জেলেসের হাসপাতালে রোগীদের জায়গা দেওয়া সম্ভব হবে না। ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস এবং ফ্লোরিডার অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।

জাপানে সর্বোচ্চ মৃত্যু, রাশিয়ায় আক্রান্তের রেকর্ড

বুধবার জাপানে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনা ভাইরাসে। দেশটিতে গত ৮ মের পর এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা এটি। জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে মোট ২ হাজার ২২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এখন পর্যন্ত। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৪৩৪ জন।

বৃহস্পতিবার রাশিয়ায় এক দিনে ২৮ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এটি এক দিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড। এদিকে ইউরোপে বাড়ছে করোনার প্রকোপ। জার্মানিতে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিধিনিষেধ ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বড়দিনের ছুটিতে দুই অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ বাতিল করেছে ইতালি।

ব্রিটেনে যাচ্ছে ফাইজারের টিকা

তড়িঘড়ি করে মার্কিন কোম্পানি ফাইজারের উদ্ভাবিত টিকার অনুমোদন দেওয়ার পর যে কোনো সময় টিকার চালান যুক্তরাজ্যে পৌঁছাবে। ব্রিটেনের উপপ্রধান মেডিক্যাল অফিসার জনাথন ভ্যান-টাম গতকাল জানান, আমরা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা হাতে পাব বলে আশা করছি। প্রাথমিকভাবে ৮ লাখ ডোজ পাওয়া যাবে। যা ৪ লাখ মানুষকে দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি আশা করেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপিয়ান কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই টিকার অনুমোদন দেবে।

ডিসেম্বরের মধ্যে ফাইজার ও মডার্নার টিকা জরুরি প্রয়োগের অনুমতি পেলে চলতি মাসেই তারা ৪ কোটি ডোজ বিতরণ করতে পারবে। আর জানুয়ারির মধ্যে আরো ৬ কোটি ডোজ হাতে পাওয়ার আশা করছে মার্কিন প্রশাসন। তবে সারা বিশ্বের মানুষের টিকা প্রাপ্তিতে আরো কয়েক বছর লেগে যাবে।